আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়ের পর বাংলাদেশে সম্ভাব্য ‘পুশব্যাক’ বা অনুপ্রবেশ নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। বৃহস্পতিবার (৭ মে ২০২৬) দিল্লির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সহজ করতে বাংলাদেশকে দ্রুত নাগরিকত্ব যাচাইয়ের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ভারতে অবস্থানরত অবৈধ বাংলাদেশি নাগরিকদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া। তবে এই প্রক্রিয়াটি সফল করতে বাংলাদেশের সহযোগিতা প্রয়োজন। জয়সওয়াল জানান, বর্তমানে ২ হাজার ৮৬০টিরও বেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ের আবেদন বাংলাদেশ সরকারের কাছে ঝুলে আছে, যার মধ্যে অনেকগুলো পাঁচ বছরেরও বেশি পুরনো। এই যাচাই প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন হলে প্রত্যাবাসন আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এর আগে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সীমান্তে ‘পুশ ইন’ বা জোরপূর্বক লোক ঢোকানোর আশঙ্কায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। বিজিবিকে সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিজেপি তাদের ‘অনুপ্রবেশকারী’ হঠানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে পারে—এমন আশঙ্কা থেকেই ঢাকা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
ব্রিফিংয়ে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন প্রসঙ্গেও প্রশ্ন করা হয়। রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ৫৪টি অভিন্ন নদী রয়েছে এবং এগুলো নিয়ে আলোচনার জন্য সুসংগঠিত দ্বিপক্ষীয় কাঠামো (যৌথ নদী কমিশন) বিদ্যমান। তিস্তা চুক্তি নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ না করলেও তিনি জানান, বিদ্যমান যৌথ প্রক্রিয়াগুলোর মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে দুই দেশ।
উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি অনুপ্রবেশ ইস্যুটিকে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল। বর্তমানে সীমান্তে উত্তেজনা এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের এই আবহে অভিবাসী প্রত্যাবাসন