জ্বালানি তেল ভারতে পরিশোধন করে দেশে আনতে চায় সরকার

জান্নাতুল ফেরদৌস
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৭ মে ২০২৬, ১২:২১ অপরাহ্ণ
জ্বালানি তেল ভারতে পরিশোধন করে দেশে আনতে চায় সরকার

অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং জ্বালানি নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভারত থেকে তেল পরিশোধনের একটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। ১৬ এপ্রিল বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক ‘জরুরি’ চিঠিতে ভারতের সঙ্গে এ বিষয়ে কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এই উদ্যোগের মূল ভিত্তি হলো একটি ‘টোলিং মডেল’। এর আওতায় বাংলাদেশ নিজস্ব অর্থায়নে অপরিশোধিত তেল ক্রয় করবে এবং তা ভারতের শোধনাগারে প্রক্রিয়াজাত করবে। বিনিময়ে বাংলাদেশ ভারতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ পরিশোধন ফি (টোলিং চার্জ) এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন ব্যয় প্রদান করবে। পরিশোধিত সেই তেল পরে বাংলাদেশে আনা হবে।

  • সীমিত সক্ষমতা: বর্তমানে বাংলাদেশ একমাত্র সরকারি শোধনাগার ‘ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড’-এর ওপর নির্ভরশীল, যার প্রযুক্তি ও সক্ষমতা সীমিত।

  • সরবরাহ বহুমুখীকরণ: দেশীয় শোধনাগার সম্প্রসারণে বড় বিনিয়োগ ও দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। তাই ভারতের আধুনিক ও উন্নত পরিশোধন অবকাঠামো ব্যবহার করে দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

  • ঝুঁকি হ্রাস: স্পট মার্কেটের অস্থিরতা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার জটিলতা এড়াতে এটি একটি কৌশলগত পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি) এই প্রকল্পের প্রধান বাস্তবায়নকারী সংস্থা হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে। ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিপিসি অপরিশোধিত তেল সংগ্রহ, টোলিং চার্জ এবং পরিবহনসহ সব ব্যয়ের হিসাব পরিচালনা করবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ব্যবস্থা স্বল্প ও মধ্যমেয়াদে কার্যকর সমাধান হলেও কিছু ঝুঁকি রয়েছে:

  • সার্বভৌমত্ব ও নির্ভরতা: দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি অবকাঠামোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা জ্বালানি সার্বভৌমত্বকে প্রভাবিত করতে পারে।

  • রিজার্ভের ওপর চাপ: টোলিং ফি এবং পরিবহন খরচ বৈদেশিক মুদ্রায় পরিশোধ করতে হলে তা রিজার্ভের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

  • ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি: কোনো কারণে দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হলে জ্বালানি সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগের পাশাপাশি নিজস্ব শোধনাগার সক্ষমতা বাড়ানোর প্রকল্পগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে যাতে দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত হয়।

জান্নাত/সকালবেলা

মন্তব্য করুন