নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে সরকারি বিভিন্ন সংস্থার ধীরগতির কার্যক্রম ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সরাসরি এই সমস্যার কথা সরকারকে জানিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকালে রাজধানীর বনানীর একটি অভিজাত হোটেলে ‘দ্য কম্পাস ডায়লগ’ শীর্ষক সংলাপে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান মন্ত্রী। সংলাপটির আয়োজন করে ইনস্টিটিউট অব স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড ট্যাকটিকস রিসার্চ (আইএসটিআর)। এতে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বলছেন, বাংলাদেশে সরকারি সংস্থাগুলো খুব ধীরগতিতে চলে। তারা কোনো সমস্যার দ্রুত সমাধান চান, কিন্তু আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে তা পান না। এতে একটি নেতিবাচক পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়েন। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এটি অন্যতম প্রধান সমস্যা।"
তিনি আরও যোগ করেন, "এখানকার ব্যবসা ও বিনিয়োগের পরিবেশ বর্তমানে খুব একটা অনুকূল নয়। তবে সরকার আমলাতন্ত্রকে সংস্কার করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা করছে। প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং প্রতিদিন এই বিষয়গুলো তদারকি করছেন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়কে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিচ্ছেন।"
বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের চলমান কাজ প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার নিরলস কাজ করছে। বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ফসলভিত্তিক কর্মসূচিগুলো তৃণমূল মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
মন্ত্রী জানান, সরকার বর্তমানে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি স্থলভাগ ও সমুদ্রে নতুন করে গ্যাস ও তেল অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছে। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই খাতে নতুন দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, "অতীতে যে রাজনৈতিক সংকটগুলো ছিল, তা পুরোপুরি দূর না হলেও পরিস্থিতি এখন অনেক বেশি ইতিবাচক। দেশে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা গেলে অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য অর্জন সম্ভব হবে।"
একইসঙ্গে তিনি আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের জন্য একটি বড় বোঝা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার এই সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান চায়।