নির্বাচনে কারচুপির বড় অভিযোগ মমতার

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬, ০৭:৩১ অপরাহ্ণ
নির্বাচনে কারচুপির বড় অভিযোগ মমতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কাছে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের রায় চুরি করে রাজ্যজুড়ে শতাধিক আসন লুট করেছেন বিজেপি নেতারা। এমনকি ফল স্পষ্ট হওয়ার পর খোদ তাঁর ওপর শারীরিক হামলা বা লাথি মারা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “বিজেপি ১০০টিরও বেশি আসন সম্পূর্ণ গায়ের জোরে লুট করেছে। ভারতের নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির নিজস্ব কমিশনে পরিণত হয়েছে। আমি সিইও এবং মনোজ আগরওয়ালের কাছে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানিয়েছিলাম, কিন্তু তাঁরা কোনো পদক্ষেপ নেননি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা কি মনে করেন এটা জনগণের প্রকৃত জয়? নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সবাই মিলে একসঙ্গে যা করেছেন, তা সম্পূর্ণ বেআইনি ও অনৈতিক।”

ভোট গণনা পরবর্তী সহিংসতার অভিযোগ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিকেল তিনটা থেকে বিজেপি গুন্ডারা আমাদের তৃণমূল কর্মীদের মারধর করছে। এমনকি খোদ আমাকেও তারা লাথি মেরেছে! তারা প্রমাণ লোপাটের জন্য গণনাকেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরাও বন্ধ করে দিয়েছিল।”

মমতার এসব অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও পরাজয়ের গ্লানি ঢাকার চেষ্টা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন দুই আসনে জয়ী বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। ফুলের মালা পরে বিজয় উদযাপনের মাঝে তিনি বলেন, “মারামারি বা ভাঙচুর করা বিজেপির রাজনৈতিক এজেন্ডা নয়। আমরা তৃণমূল কংগ্রেসের মতো দুষ্কৃতিমূলক কাজ করি না। যারা গত ১৫ বছর ধরে বাংলা লুট করেছে, সেই চোর ও গুন্ডাদের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আমাদের সরকার আইনি ব্যবস্থা নেবে, তাদের গায়ে হাত তোলার প্রয়োজন নেই।”

শুভেন্দু আরও দাবি করেন, “মমতার স্বৈরাচারী দিনের অবসান ঘটেছে। এবার হিন্দুরা ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, এমনকি সিপিএমের সমর্থকরাও প্রগতি ও উন্নয়নের স্বার্থে আমাকে ভোট দিয়েছেন।” বিজেপির প্রবীণ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলার মানুষ গত ১৫ বছর মমতা ব্যানার্জিকে সময় দিয়েছিল, কিন্তু তিনি সিন্ডিকেট রাজ আর দুর্নীতি ছাড়া কিছুই দেননি। মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল বলেই আমাদের জয়ী করেছে। বিজেপির কাছে এখন সাধারণ মানুষের অনেক প্রত্যাশা, আমরা তা পূরণ করব।”

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টির ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০৬টি আসনে ল্যান্ডস্লাইড বিজয় নিয়ে প্রথমবারের মতো বাংলার মসনদ দখল করতে যাচ্ছে বিজেপি। বিপরীতে, গত তিনবারের ক্ষমতাসীন দল তৃণমূল কংগ্রেস ধুয়ে-মুছে গিয়ে মাত্র ৮১টি আসনে থিতু হয়েছে। ঐতিহাসিক এই জয়ের মাধ্যমে ভারতের পূর্ব উপকূলে গেরুয়া শিবিরের এক নতুন দিগন্তের সূচনা হলো।

মন্তব্য করুন