প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় সমন্বয় কমিটি

রকিব মুহাম্মদ
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৪:১৯ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের জাতীয় সমন্বয় কমিটি

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি শক্তিশালী ‘জাতীয় সমন্বয় কমিটি’ গঠন করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

নবগঠিত এই কমিটির সহ-সভাপতি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা। কমিটিতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

১১ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটিতে সদস্য হিসেবে রয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার এবং পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)। এছাড়াও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই), ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেল (এনটিএমসি) এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) মহাপরিচালকগণ এই কমিটির সদস্য।

পাশাপাশি কমিটিকে বিশেষ কারিগরি ও মাঠপর্যায়ের সহায়তা দিতে আরও ছয়জন ‘সহায়তাদানকারী সদস্য’ রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (এসবি ও সিআইডি), বাংলাদেশ ব্যাংকের বিএফআইইউ প্রধান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সেলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং সিটিটিসি ও অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এই কমিটির কার্যপরিধি বেশ বিস্তৃত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো সামাজিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো নির্ধারণ এবং সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যপরিধি মূল্যায়ন, প্রচলিত আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ প্রদান এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মসহ সংশ্লিষ্ট সকল মাধ্যম নিয়মিত তদারকি করাও এই কমিটির দায়িত্ব। গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে সমন্বয় আরও সুদৃঢ় করতেও কমিটি কাজ করবে।

কমিটির সচিবালয় হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই)। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, কমিটি অন্তত প্রতি মাসে একবার অথবা তিন মাসে একবার সভায় মিলিত হবে। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় যেকোনো সময় সভা ডাকার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী বা অন্য সংস্থার কর্মকর্তাদের কো-অপ্ট করার ক্ষমতা কমিটির হাতে রাখা হয়েছে।

মন্তব্য করুন