সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর রসিকতা ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে তো কথা শুনতে হবে’

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৫:৪৫ অপরাহ্ণ
সিলেটে প্রধানমন্ত্রীর রসিকতা ‘শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে  তো কথা শুনতে হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সিলেটের জনসভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য চলাকালে এক অভাবনীয় ও আনন্দঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সমাবেশের এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতা সমস্বরে ‘দুলাভাই’ ‘দুলাভাই’ স্লোগান দিতে শুরু করলে পুরো এলাকায় হাস্যরসের রোল পড়ে। জনতার এই অকৃত্রিম ভালোবাসার জবাবে প্রধানমন্ত্রীও অত্যন্ত সাবলীল ও রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য করে উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করেন।

শনিবার দুপুরে সিলেট সদর উপজেলার কান্দিগাঁও ইউনিয়নে বাসিয়া নদী পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন শেষে এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় স্থানীয়রা তাকে ‘সিলেটের দুলাভাই’ সম্বোধন করে স্লোগান দিতে থাকলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, “কথা বলতে হলে আপনাদের একটু চুপ করতে হবে। আমি কথা বলছি, শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে তো কথা শুনতে হবে!”

রসিকতা আরও বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আর দুলাভাইকে যদি কথা বলতে না দেন, তবে তো দুলাভাই চলে যাবে। আমি কি চলে যাবো?” প্রধানমন্ত্রীর এমন চটজলদি জবাবে সমাবেশস্থলে হাসির জোয়ার বয়ে যায়।

মঞ্চে উপস্থিত নেতাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, সিলেটের সাথে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক আত্মীয়তার সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই স্থানীয়রা এমন স্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। প্রধানমন্ত্রীও সেই আবেগের সাথে একাত্ম হয়ে জনতাকে মাতিয়ে রাখেন।

আলাপ-আলোচনা ও রসিকতার ফাঁকেই দেশের উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আমরা কাজ শুরু করেছি। আমরা বলেছিলাম সারা দেশে খাল ও নদী খনন করা হবে, আজ বাসিয়া নদী খননের মাধ্যমে সেই কাজ শুরু হলো। এই খনন কাজ শেষ হলে নদীর দুই তীরে ৫০ হাজার বনজ ও ফলজ গাছ লাগানো হবে, যা পরিবেশ রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।”

নদী খননের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, ১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এই খালটি প্রথম খনন করেছিলেন। পরবর্তীতে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এটি ভরাট হয়ে যায়। এখন পুনঃখননের ফলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বাড়তি ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল উৎপাদন সম্ভব হবে।

সমাবেশে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং হুইপ জিকে গউছ। রাজনৈতিক বক্তব্যের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর এমন ব্যক্তিগত ও আন্তরিক আচরণ সিলেটবাসীর মধ্যে বিশেষ আলোচনা তৈরি করেছে।

মন্তব্য করুন