কিউবার ওপর ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, লক্ষ্যবস্তু জ্বালানি ও আর্থিক খাত

রাকিবুল হাসান
প্রকাশ: শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৬:৩০ অপরাহ্ণ
কিউবার ওপর ট্রাম্পের কঠোর নিষেধাজ্ঞা, লক্ষ্যবস্তু জ্বালানি ও আর্থিক খাত

নিজস্ব প্রতিবেদক: কিউবার কমিউনিস্ট সরকারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বৃদ্ধির লক্ষ্যে নতুন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১ মে) জারি করা এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবার অর্থনীতির বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ খাতকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে কিউবার সাথে লেনদেন করা বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোও এখন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার সরাসরি হুমকির মুখে পড়ল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে কিউবার জ্বালানি, প্রতিরক্ষা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম, ধাতু ও খনন, আর্থিক সেবা এবং নিরাপত্তা খাতের ওপর বড় ধরনের প্রভাব পড়বে। এছাড়া কিউবার যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন’ বা দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে, তাদের ওপরও ব্যক্তিগত পর্যায়ে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হবে।

জারি করা আদেশে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ব্যক্তিরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবেন না। একই সঙ্গে কোনো বিদেশি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান যদি এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের সাথে কোনো ধরণের আর্থিক লেনদেন করে, তবে সেই প্রতিষ্ঠানকেও মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভেনিজুয়েলা থেকে তেলের সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে কিউবা বর্তমানে এক গভীর অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ট্রাম্পের এই নতুন অবরোধ দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিকে আরও শোচনীয় অবস্থায় ঠেলে দিতে পারে।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসেই মার্কিন প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা কিউবা সফর করেছিলেন, যা দুই দেশের মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিন্তু সেই আবহ কাটতে না কাটতেই ট্রাম্পের এই কঠোর অবস্থান সবাইকে অবাক করেছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও দীর্ঘদিন ধরেই কিউবার শাসনব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। ট্রাম্পের এই নতুন পদক্ষেপকে রুবিওর সেই কঠোর নীতিরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বিবৃতিতে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, কিউবার একনায়কতান্ত্রিক সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতেই এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই নিষেধাজ্ঞার ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

মন্তব্য করুন