আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধাবস্থা এবং লোহিত সাগরে উত্তেজনার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের নৌপথের মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে। সমুদ্র ও পণ্য পরিবহণ সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কন্টেইনারবাহী জাহাজের যাতায়াতের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হচ্ছে আফ্রিকা। গত দুই মাস ধরে চলা অবরোধের কারণে জাহাজ মালিকরা এখন সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে স্থলভাগ ব্যবহারের চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে লোহিত সাগরের তীরের সৌদি আরবের জেদ্দা বন্দর একটি নতুন আঞ্চলিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমএসসি, মার্স্ক ও কসকোর মতো বড় কোম্পানির জাহাজগুলো সুয়েজ খাল হয়ে জেদ্দায় ভিড়ছে এবং সেখান থেকে মরুভূমির মহাসড়ক দিয়ে ট্রাকযোগে পণ্য শারজাহ, বাহরাইন ও কুয়েতে পাঠানো হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত চাপের কারণে জেদ্দা বন্দরে তীব্র জাহাজ জট তৈরি হয়েছে; যেখানে পণ্য খালাসে ১৭ ঘণ্টার পরিবর্তে এখন গড়ে ৩৬ ঘণ্টা সময় লাগছে। এছাড়া ওমানের সোহর এবং আরব আমিরাতের খোরফাক্কান ও ফুজাইরা বন্দরগুলোকেও বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর থেকেই মূলত সুয়েজ খাল এড়িয়ে চলার প্রবণতা শুরু হয়। বর্তমানে লোহিত সাগরের ৭০ শতাংশ বাণিজ্যিক জাহাজ আফ্রিকার ‘উত্তমাশা অন্তরীপ’ (Cape of Good Hope) হয়ে ঘুরে যাতায়াত করছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্য অনুযায়ী, এই পথে গত তিন বছরে জাহাজের যাতায়াত তিন গুণ বেড়েছে। বিপরীতে বাব এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে যাতায়াত অর্ধেকের বেশি কমে গেছে।
নৌপথের এই পরিবর্তনের ফলে এশিয়া ও ইউরোপের মধ্যে পণ্য পরিবহণে গড়ে দুই সপ্তাহ সময় বেশি লাগছে। ড্রিউরি ফ্রেইট সূচক বলছে, অতিরিক্ত জ্বালানি ও সময়ের কারণে গত বছরের তুলনায় এপ্রিলে কন্টেইনার পরিবহণ খরচ গড়ে ১৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতিতে মরক্কোর তানজান মেদ-এর মতো আফ্রিকার বন্দরগুলোর ব্যস্ততা বাড়লেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে মিসর। ২০২৪ সালে সুয়েজ খাল থেকে তাদের রাজস্ব আয় গত বছরের তুলনায় ৬০ শতাংশ বা প্রায় ৭০০ কোটি ডলার কমেছে।
আই.এ/সকালবেলা