মৌলভীবাজারে পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু

প্রকাশ: শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ণ
মৌলভীবাজারে পৃথক বজ্রপাতে দুজনের মৃত্যু

তিমির বণিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারে কালবৈশাখী ঝোড়ো হাওয়ার সাথে আকস্মিক বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় এক চা-শ্রমিক ও এক কৃষকসহ দুজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। 

আজ শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের আগে ও পরে জেলার সদর উপজেলার হামিদিয়া চা-বাগান এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে এই পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবার ও সংশ্লিষ্ট এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার সদর উপজেলার চাঁদনীঘাট ইউনিয়নের অন্তর্গত হামিদিয়া চা-বাগানে কাজ করার সময় আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হন স্বপন মুন্ডা নামের এক তরুণ চা-শ্রমিক। দুপুরের দিকে বৃষ্টির সাথে প্রচণ্ড শব্দে বজ্রাঘাত হলে তিনি গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বাগানের অন্য শ্রমিকরা তাঁকে উদ্ধার করার আগেই তিনি মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। নিহত স্বপন মুন্ডার পৈতৃক বাড়ি কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওরাছড়া চা-বাগানে বলে জানা গেছে। পবিত্র জুমার দিনে তরতাজা এই যুবকের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পুরো চা-শ্রমিক পল্লী স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।

এদিকে জেলার রাজনগর উপজেলার ৭ নম্বর কামারচাক ইউনিয়নের ভোলানগর গ্রামে বজ্রপাতে মো. তালেব মিয়া নামের এক মধ্যবয়সী কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। জানা যায়, আজ সকালে তিনি নিজের খেতের পাকা ধান কাটার জন্য মাঠে গিয়েছিলেন। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আকাশে কালো মেঘ জমে ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলেও জীবিকার তাগিদে তিনি খোলা মাঠেই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বজ্রপাত হলে তিনি জমিতেই জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে আশেপাশের মাঠের অন্য কৃষক ও স্বজনরা ছুটে গিয়ে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন।

প্রকৃতির এই আকস্মিক রুদ্ররূপে দুটি পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তাদের স্বজনরা। স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, “চলতি মৌসুমে এই অঞ্চলে প্রায়ই বজ্রসহ কালবৈশাখী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। জীবিকার তাগিদে মানুষ মাঠে কিংবা বাগানে কাজ করতে গিয়ে এই চরম ঝুঁকিতে পড়ছেন। মেঘের ডাক শুনলে বা আকাশ কালো হলে খোলা মাঠ ও ওপরে একা থাকা গাছপালার নিচে না থেকে সবাইকে দ্রুত পাকা দালানের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়া উচিত।”

রাজনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন আহমদ ভূঁইয়া এবং কমলগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমির আলী বজ্রপাতে পৃথক দুটি মৃত্যুর ঘটনা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে জানান, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে এমন অকাল মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। এই সময়ে গ্রামীণ ও দুর্গম এলাকায় সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

এ.আই.এল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন