অবৈধ পাজুর বিষাক্ত ধোঁয়ায় সুনামগঞ্জে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য বিপন্ন
এনামুল কবির মুন্না, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া সুনামগঞ্জের ছাতকে আশঙ্কাজনক হারে গড়ে উঠেছে কাঠজ্বালিত চুনের চুল্লি (স্থানীয় ভাষায় ‘পাজু’)। এসব পাজুতে প্রতি মাসে বিপুল পরিমাণ কাঠ পোড়ানোয় বনাঞ্চল উজাড়ের পাশাপাশি ঘন বিষাক্ত ধোঁয়া ও চুনের গুঁড়ায় মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য।
স্থানীয়দের দাবি, ছাতক পৌরসভা ও উপজেলার বিভিন্ন জনবহুল এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সুরমা নদীর তীরে প্রায় দুই শতাধিক পাজু চালু রয়েছে। ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের প্রতিনিয়ত বিষাক্ত ধোঁয়া ও ধুলাবালির মধ্য দিয়েই যাতায়াত করতে হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০০টি পাজুতে প্রতি মাসে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ টন কাঠ পোড়ানো হয়। সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে দৈনিক ২০ থেকে ৩০টি ট্রাকে এসব কাঠ ছাতকে আনা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে জ্বালানির দাম বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর ভয়াবহ চাপ ফেলছে।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান জানান, গত কয়েক মাসে পরিবেশজনিত রোগীর চাপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। অন্যদিকে শাবিপ্রবির ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ইসলাম একে অত্যন্ত উদ্বেগজনক আখ্যা দিয়ে দ্রুত প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও পরিবেশসম্মত শিল্পনীতি প্রণয়নের তাগিদ দেন।
ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা পাজুর ট্রেড লাইসেন্স থাকার কথা দাবি করলেও পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমতি নেই। সুনামগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. মোহাইমিনুল হক ও ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহি উদ্দিন স্পষ্ট জানিয়েছেন, এসব অবৈধ পাজুর কোনো ছাড়পত্র নেই। পরিবেশ সুরক্ষায় খুব দ্রুতই যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এসব পাজু মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এআইএল/সকালবেলা
|