কটিয়াদীতে ইয়াবাসহ ২ কারবারি আটক

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০২:৪০ অপরাহ্ণ
কটিয়াদীতে ইয়াবাসহ ২ কারবারি আটক

মিজানুর রহমান, কটিয়াদী (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ ও পুলিশের তাৎক্ষণিক যৌথ অভিযানে ১১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজ শেষে স্থানীয় মুসুল্লি, সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়।

আটককৃতরা হলেন— কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামের মো. ইমরান খানের ছেলে মো. হাসান (২২) এবং একই গ্রামের মৃত মীর হোসেনের ছেলে মো. ইমরান (৪২)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যপাড়া এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এই চক্রটি মাদক ব্যবসা চালিয়ে আসছিল। এতে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছিল, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছিল। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গতকাল জুমার নামাজের পর এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে সন্দেহভাজন ওই দুই মাদক কারবারিকে অবরুদ্ধ করে কটিয়াদী থানা-পুলিশকে খবর দেন।

সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথে কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ও সঙ্গীয় ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আটককৃতদের দেহ তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজত থেকে ১১০ পিস নিষিদ্ধ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

অভিযান সফল হওয়ায় এলাকার প্রবীণ ও সচেতন ব্যক্তিরা বলেন, “মাদক একটি সমাজবিধ্বংসী ব্যাধি। এটি একটি পরিবার ও পুরো সমাজকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। কটিয়াদীকে মাদকমুক্ত করতে হলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর নির্ভর করলে চলবে না; সাধারণ জনগণকেও এভাবে সচেতন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।” মধ্যপাড়ার এই ঘটনাকে জনগণ ও পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, “উদ্ধারকৃত ইয়াবাসহ মাদক পরিবহনের আলামত জব্দ করা হয়েছে। আটক দুই আসামির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের পর আজ শনিবার (১৩ জুন) সকালে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন