রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৪৯ অপরাহ্ণ
রাউজানে যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ (৪৫) নামে এক যুবদল নেতাকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। 

আজ শনিবার (১৩ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার পাহাড়তলী চৌমুহনী এলাকায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

নিহত মাকসুদুল হক চৌধুরী মাসুদ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। তিনি রাঙ্গুনিয়ার বেতাগী এলাকার মৃত খালেদ চৌধুরীর ছেলে। আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বেতাগী ইউনিয়ন থেকে তিনি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ছিলেন বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে রাউজানের পাহাড়তলী চৌমুহনী বাজারের একটি স্থানে অবস্থান করছিলেন মাসুদ। এ সময় হঠাৎ মোটরসাইকেলে আসা একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁকে লক্ষ্য করে খুব কাছ থেকে পরপর কয়েকটি গুলি ছোড়ে। মাথায় ও বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। ঘটনার পরপরই পিস্তল উঁচিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পালিয়ে যায় খুনিরা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ধারণা, দীর্ঘদিন ধরে চলা বালুর ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধের জেরে এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে।

হত্যাকাণ্ডের খবর রাঙ্গুনিয়া ও রাউজান উপজেলায় ছড়িয়ে পড়লে দুই উপজেলার বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ কর্মী-সমর্থকরা লাঠিসোঁটা নিয়ে রাস্তায় নেমে আসেন এবং কাপ্তাই সড়কের ইছাখালী (রাঙ্গুনিয়া) ও পাহাড়তলী (রাউজান) এলাকায় টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।

দুপুর ২টার পর থেকে কাপ্তাই সড়কে সব ধরনের ভারী ও হালকা যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে সড়কের দুই পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। আন্দোলনরত নেতাকর্মীরা জানান, এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের অনতিবিলম্বে গ্রেফতার না করা পর্যন্ত তাদের রাজপথ অবরোধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। তবে মানবিক কারণে শুধুমাত্র অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবার যানবাহনগুলো ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, “যুবদল নেতাকে গুলি করে হত্যার খবর পাওয়া মাত্রই থানা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে ছুটে গেছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।”

তিনি আরও জানান, “হত্যাকাণ্ডের পর কাপ্তাই সড়কের দুই উপজেলার সীমান্ত এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সহিংসতা এড়াতে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত দাঙ্গা পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। এই বর্বরোচিত ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু হয়েছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন