জগন্নাথপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত ৭০
মো. মুকিম উদ্দিন, জগন্নাথপুর প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় মসজিদের ভেতর ধর্মীয় একটি মাসআলাকে (ধর্মীয় বিধান) কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে এক ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৭০ জন আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার কলকলিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের তেলিকোনা গ্রামে সুনু মিয়া ও আসাদ মিয়ার সমর্থকদের মধ্যে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) জুমার নামাজের পর তেলিকোনা গ্রামের স্থানীয় একটি মসজিদে ধর্মীয় একটি মাসআলা নিয়ে গ্রামের সুনু মিয়া ও আসাদ মিয়ার লোকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও তীব্র বাকবিতণ্ডা হয়। সে সময় উপস্থিত মুসল্লিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হলেও দুই পক্ষের মাঝে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই জেরে আজ শনিবার সকাল ১০টার দিকে উভয় পক্ষের শত শত লোক লাঠিসোঁটা, ফিকল ও দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামের একটি মাঠে মুখোমুখি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এতে দুই পক্ষের নারী-পুরুষসহ অন্তত ৭০ জন রক্তাক্ত জখম হন।
সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, আহতদের অনেকের শরীরেই দেশীয় অস্ত্রের গভীর আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে গুরুতর ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় ৫০ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকিরা স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “মসজিদের মাসআলা নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। খবর পাওয়ার পরপরই আমি নিজে একদল পুলিশ নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনি। সেই সাথে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, “বর্তমানে তেলিকোনা গ্রামের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নতুন করে যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ও সহিংসতা এড়াতে গ্রামে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”
এআইএল/সকালবেলা
|