আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: চেয়ারম্যান খাদিজাকে অব্যাহতি

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৩:৫৯ অপরাহ্ণ
আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল: চেয়ারম্যান খাদিজাকে অব্যাহতি

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত নারী প্যানেল চেয়ারম্যান মোছা. খাদিজা বেগমকে তাঁর পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অসদাচরণ ও অনিয়মসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত ১০ জুন (বুধবার) কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক (ডিসি) অন্নাপূর্ণা দেবনাথ স্বাক্ষরিত এক আদেশে খাদিজা বেগমকে প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

একই আদেশে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক ও আর্থিক কার্যক্রম সচল রাখতে এবং নাগরিক সেবা নিশ্চিতে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফিরোজ কবিরকে নতুন প্রশাসকের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সন্তোষপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছিলেন মোছা. খাদিজা বেগম। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পরিষদের একাধিক সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সদস্যের (মেম্বার) সঙ্গে তাঁর তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ইউপি সদস্যরা তাঁর বিরুদ্ধে অসদাচরণ, স্বেচ্ছাচারিতা এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এনে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

এরই মধ্যে গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে খাদিজা বেগমের একটি আপত্তিকর ভিডিও এবং এর কয়েকটি স্ক্রিনশট দ্রুত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুরো জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। একজন নারী জনপ্রতিনিধির এমন অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই ঘটনাটি তদন্তাধীন অনিয়মের অভিযোগে নতুন মাত্রা যোগ করে।

ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা জানান, এই ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের পর তাঁর চেয়ারে থাকার নৈতিক অধিকার নষ্ট হয়েছিল। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিটি অভিযোগের মাঠপর্যায়ে তদন্ত করে সত্যতা পায় এবং সেই প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হয়।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোছা. খাদিজা বেগমের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি ঘটনার পর থেকে তিনি এলাকাতেও অনুপস্থিত রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম. খোদাদাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, “শুধু ভিডিও ভাইরাল হওয়ার কারণেই খাদিজা বেগমকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ধরে পরিষদের সদস্যদের সাথে অসদাচরণ ও প্রশাসনিক অনিয়মসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের লিখিত অভিযোগ ছিল। বিধি মোতাবেক তদন্ত কমিটি গঠন করে সেই প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই জেলা প্রশাসক মহোদয় এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম, দাপ্তরিক কাজ এবং জনসেবা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেই স্বার্থেই দ্রুততম সময়ে নতুন প্রশাসক নিয়োগসহ এই প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন