সোনারগাঁয়ে ধর্ষণ মামলায় যুবদল নেতাসহ গ্রেফতার ২

প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৪:০৭ অপরাহ্ণ
সোনারগাঁয়ে ধর্ষণ মামলায় যুবদল নেতাসহ গ্রেফতার ২

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের সিরাব এলাকায় এক গৃহবধূকে (৩০) ভয়ভীতি দেখিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় যুবদলের এক নেতাসহ দুইজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

গতকাল শুক্রবার (১২ জুন) রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে জামপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শহিদ (৪০) ও তাঁর সহযোগী শাহিন মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়।

সোনারগাঁ থানায় দায়েরকৃত মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারী তাঁর স্বামী ও সন্তানদের নিয়ে সিরাব এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ১০ জুন (বুধবার) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি যখন নিজের রান্নাঘরে কাজ করছিলেন, সেই সময় অভিযুক্ত শহিদ ও শাহিন আকস্মিক ঘরে প্রবেশ করে পিছন থেকে তাঁর মুখ চেপে ধরে। এ সময় ভুক্তভোগীর সন্তানদের বড় ধরনের ক্ষতি ও প্রাণনাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে তারা ওই নারীকে পাশের একটি চারতলা ভবনের নিচতলার নির্জন কক্ষে নিয়ে যায়।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, সেখানে ভুক্তভোগী নারীর হাত ও মুখ কাপড়ে বেঁধে আসামিরা পালাক্রমে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পাশবিক নির্যাতন শেষে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করলে ভুক্তভোগী নারী কোনোমতে নিজের বাসায় ফিরে আসেন। পরে সন্ধ্যায় তাঁর স্বামী কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফিরলে তিনি পুরো বিষয়টি তাঁকে জানান। পারিবারিক সিদ্ধান্তের পর গতকাল শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি লিখিত মামলা দায়ের করেন।

ভয়াবহ এই অপরাধের অভিযোগ পাওয়ার পরপরই লড়াকু ভূমিকায় নামে সোনারগাঁ থানা পুলিশ। মামলার পরিদর্শকসহ একটি চৌকস দল দ্রুত তথ্য-প্রযুক্তি ও মাঠপর্যায়ের সোর্সের সহায়তায় সিরাব ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান দুই আসামিকে হাতেনাতে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সারোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সকালবেলা-কে বলেন, “নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ তৎপরতার সাথে অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় প্রধান দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। আজ শনিবার সকালে তাদের আদালতের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

ওসি আরও জানান, “ভুক্তভোগী নারীর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাঁকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বিষয়টি নিবিড়ভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িত বাকিদের গ্রেফতারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন