ইসলামী ব্যাংকের আরডিএসে গ্রামীণ অর্থনীতির অগ্রগতি
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ০৫:২৭ অপরাহ্ণ
বিশেষ সংবাদদাতা: বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারিদ্র্য বিমোচন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস)। সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রকল্পটির মোট স্থিতি ছিল ৬৭১২ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালে বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৭৬৯ কোটি টাকায়—অর্থাৎ এক বছরে বৃদ্ধি পেয়েছে ৭৭ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় ৮ লাখ সদস্যের মধ্যে এই অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চার মাসে এই প্রকল্পের আওতায় ২৩৬২ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে, যার মধ্যে আদায় হয়েছে ২২১১ কোটি টাকা এবং অনাদায়ী রয়েছে ১৯১ কোটি টাকা। প্রকল্পটির পুনরুদ্ধার হার (রিকভারি রেট) শতকরা ৯৮ ভাগেরও বেশি, যা মাইক্রোফাইন্যান্স খাতে একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প একটি শরিয়াহভিত্তিক মাইক্র্রোফাইন্যান্স কর্মসূচি, যার মাধ্যমে গ্রামের নিম্ন আয়ের ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী—বিশেষ করে নারীদের—বিনা জামানতে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্ষুদ্র বিনিয়োগ প্রদান করা হয়। ঘূর্ণায়মান তহবিলের আওতায় পরিচালিত এই কর্মসূচি গ্রামীণ জনগণের আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি, কৃষি ও ক্ষুদ্র উদ্যোগে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং সঞ্চয় অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করছে।
১৯৯৫ সালে মাত্র চারটি গ্রামে পাইলট প্রকল্প হিসেবে যাত্রা শুরু করে আরডিএস। পরবর্তীতে এটি একটি বৃহৎ সামাজিক-অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে পরিণত হয়েছে। প্রকল্পটির অন্যতম লক্ষ্য হলো গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুদমুক্ত বিনিয়োগের আওতায় এনে তাদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে সহায়তা করা এবং নৈতিক মূল্যবোধভিত্তিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
নারীর ক্ষমতায়নে এই প্রকল্পের অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রকল্পের মোট সদস্যের প্রায় ৯২ থেকে ৯৪ শতাংশই নারী, যা গ্রামীণ নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি ১৯৮৩ সালের ৩০ মার্চ প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল দেশের সর্বস্তরের মানুষের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠন। এ লক্ষ্যে ব্যাংকটি গ্রামীণ ও শহুরে অর্থনীতির বৈষম্য হ্রাস এবং আয়ের ন্যায্য বণ্টন নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশের গ্রামীণ অঞ্চলে এখনও প্রায় ২০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করে। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ নিরক্ষরতা, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং অর্থনৈতিক বৈষম্যের শিকার। এই বাস্তবতায় পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের মতো উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
দেশের অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক মহল মনে করেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি একটি তফসিলি ব্যাংক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত একটি জাতীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণাধীন নয়; বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনে কাজ করে যাচ্ছে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-এর পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (আরডিএস) বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থার এক সফল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
|