শেখ হাসিনার পতন ও অন্তর্বর্তী সরকারের বার্তা দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান

প্রকাশ: বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৫৩ অপরাহ্ণ
শেখ হাসিনার পতন ও অন্তর্বর্তী সরকারের বার্তা দিয়েছিলেন সেনাপ্রধান
জাতির উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট—বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম বড় মোড় পরিবর্তন ও যুগান্তকারী এক অধ্যায়। ছাত্র-জনতার উত্তাল গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশত্যাগের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক শূন্যতায় জাতির উদ্দেশে বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বিকেল চারটায় সেনা সদর দপ্তর থেকে সম্প্রচারিত বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হয়েছে এবং একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ঐতিহাসিক সেই ব্রিফিংয়ে সেনাপ্রধান বলেন, "আমরা সুন্দর ও ফলপ্রসূ আলোচনা করেছি। প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন। এখন একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে আমরা আমাদের সব কার্যক্রম পরিচালনা করব। এই বিষয়ে আমরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করতে যাচ্ছি।"

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে আন্দোলন কেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহতদের ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন এবং দেশবাসীকে সশস্ত্র বাহিনীর ওপর আস্থা রাখার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, "আমি সব দায়িত্ব নিচ্ছি। আপনারা জানমালের নিরাপত্তা পাবেন এবং আমি কথা দিচ্ছি আপনারা আশাহত হবেন না। আপনাদের যত যৌক্তিক দাবি আছে সেগুলো পূরণ করা হবে এবং দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে।"

প্রেস ব্রিফিংয়ের আগে সেনা সদরে অনুষ্ঠিত সেই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি, গণসংহতি আন্দোলনের জুনায়েদ সাকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুলসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তবে ওই বৈঠকে আওয়ামী লীগের কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন না।

সারাদেশে ভাঙচুর, অরাজকতা ও রক্তক্ষয় বন্ধ করার জোর আকুল আবেদন জানিয়ে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, "দয়া করে মারামারি ও ধ্বংসাত্মক কাজ থেকে বিরত থাকুন। সংঘাতের মাধ্যমে আমরা আর কিছুই পাব না। আপনারা একটু ধৈর্য ধরুন এবং আমাদের কিছুটা সময় দিন। সবাই মিলে আমরা একটি সুন্দর ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাব।"

তিনি আরও জানান, তাঁর বিশেষ অনুরোধে অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বার্তা বিনিময়ের উদ্যোগ নেন, যাতে দ্রুততম সময়ে রাজপথের উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

পরবর্তীতে সেনাপ্রধানের এই বার্তার ওপর ভর করেই দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের আইনি ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়েছিল।

মন্তব্য করুন