তেলের দামে দিশেহারা কৃষক: বিঘ্নিত হচ্ছে বোরো চাষের সেচ

তেলের দামে দিশেহারা কৃষক: বিঘ্নিত হচ্ছে বোরো চাষের সেচ

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জে ডিজেল সংকটের কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে চলতি মৌসুমে বোরো ধানের কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। বাজারে চাহিদামতো ডিজেল না পাওয়া এবং চড়া দামে তেল কিনতে বাধ্য হওয়ায় উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৫২ হাজার ৭০২ হেক্টর জমিতে ৩৬ হাজারের বেশি ডিজেলচালিত পাম্পের মাধ্যমে সেচ কার্যক্রম চলছে। কিন্তু বর্তমান জ্বালানি সংকটে অনেক পাম্প চালু রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

কাজীপুর উপজেলার মেছড়া ইউনিয়নের হাড়িভাঙ্গা চরের কৃষক আবু সালমান জানান, আগে প্রতি লিটার ডিজেল ১০৫ টাকায় পাওয়া গেলেও বর্তমানে ১৩০ টাকা পর্যন্ত গুণতে হচ্ছে। ১০ বিঘা ধান ও ৩০ বিঘা ভুট্টা চাষ করা এই কৃষক জানান, প্রতিদিন ১২ লিটার তেলের প্রয়োজন হলেও চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ পাচ্ছেন না। ধানের শীষ বের হওয়ার এই মাহেন্দ্রক্ষণে পানি না পেলে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এস এম নাসিম হোসেন জানান, কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে প্রতিটি ইউনিয়নে কার্ডের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে নির্দিষ্ট পরিমাণ ডিজেল সংগ্রহ করতে পারবেন।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মনজুরে মাওলা বলেন, “প্রকৃত কৃষকদের কাছে ন্যায্যমূল্যে ডিজেল পৌঁছে দিতে আমরা প্রশাসন ও সেচ কমিটির সঙ্গে কাজ করছি। কার্ডের মাধ্যমে তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে ইউনিয়ন পর্যায়ে তালিকা তৈরি হচ্ছে।”

তবে চরাঞ্চলের কৃষকদের অভিযোগ, মাঠপর্যায়ে এখনো কৃষি অফিসের কার্যকর যোগাযোগ শুরু হয়নি। দ্রুত এই সংকট নিরসন করা না হলে জেলার খাদ্য উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মন্তব্য করুন