ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
তিমির বনিক, মৌলভীবাজার : মৌলভীবাজারের চা-অধ্যুষিত জনপ্রিয় উপজেলা শ্রীমঙ্গল। এই অঞ্চলের কয়েক লাখ চা-শ্রমিক ও সাধারণ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। তবে দীর্ঘদিন ধরে তীব্র জনবল সংকটের কারণে এখানকার চিকিৎসা সেবা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। চিকিৎসক, নার্স ও সহায়ক কর্মীর অভাবে হিমশিম খাচ্ছেন দায়িত্বরতরা, আর সেবা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
২০১২ সালে হাসপাতালটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও জনবল কাঠামো এখনো পূর্ণ হয়নি। ১৪৫ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ১০৮ জন। গুরুত্বপূর্ণ ৩৭টি পদই শূন্য। ফলে উপজেলার উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রের চিকিৎসকদের এনে উপজেলা কমপ্লেক্সের সেবা চালু রাখতে হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে তৃণমূল পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবা।
হাসপাতালে অত্যাধুনিক এক্স-রে ও আলট্রাসনোগ্রাফি মেশিন থাকলেও টেকনিশিয়ান (রেডিওগ্রাফি) না থাকায় সেগুলো সাধারণ মানুষের কোনো কাজে আসছে না। এছাড়া স্থায়ী গাইনি কনসালটেন্ট না থাকায় প্রসূতি মায়েদের সেবাও মুখ থুবড়ে পড়েছে।হাসপাতালের তথ্যমতে, বহির্বিভাগে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৯০০ জন, জরুরি বিভাগে শতাধিক এবং অন্তবিভাগে প্রায় ৫৫ থেকে ৭৫ জন রোগী নিয়মিত ভর্তি থাকেন। সেবা নিতে আসা চা-শ্রমিক সাধন দাশ আক্ষেপ করে বলেন, "চারদিন ধরে ঘুরছি, কিন্তু কোনো সুরাহা পাচ্ছি না।" বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সবচেয়ে বেশি ভুগছেন আর্থিকভাবে অসচ্ছল চা-শ্রমিকরা।
বর্তমানে হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ১টি, সহকারী সার্জন ৪টি এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সসহ মোট ৩৭টি পদ খালি রয়েছে। পরিসংখ্যানবিদ, কার্ডিওগ্রাফার, কম্পিউটার অপারেটর, এমনকি পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও বাবুর্চির পদও শূন্য। চিকিৎসক সংকটের কারণে ৪টি ইউনিয়নের উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারদের দিয়ে জরুরি বিভাগের ডিউটি করাতে হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন জানান, "স্বল্প জনবল নিয়ে আমরা সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি। বিশেষ করে পরিচ্ছন্নতা কর্মী ও চিকিৎসকের অভাব প্রকট। সিভিল সার্জন বরাবর চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, দ্রুত সমাধান আশা করছি।"
মৌলভীবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মামুনুর রহমান বলেন, "জনবল সংকটের বিষয়টি আমরা জানি এবং একাধিকবার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। আশা করছি মন্ত্রণালয় দ্রুত শূন্য পদগুলো পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।"
এন.এ/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ