মেঘনায় নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর লাশ উদ্ধার
সামজাদ জসি (সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজের দুই দিন পর ফারিয়া আক্তার (১২) নামে এক স্কুলছাত্রীর ভাসমান লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় পুরো উপজেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার চাতলপাড় ইউনিয়নের ফকিরদিয়া এলাকায় মেঘনা নদীর তীরে স্থানীয়রা লাশটি ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন।
নিহত ফারিয়া নাসিরনগর উপজেলার কাঁঠালকান্দি গ্রামের সাখাওয়াত হোসেনের মেয়ে। সে কাঁঠালকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির মেধাবী শিক্ষার্থী ছিল।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে ফারিয়া তার চাচাতো বোন ও সমবয়সী বন্ধুদের সঙ্গে বাড়ির পাশের মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়। গোসলের এক পর্যায়ে সে নদীর গভীর পানিতে চলে গেলে প্রবল স্রোতে মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। সাথে থাকা অন্য শিশুরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হয়ে গ্রামে খবর দেয়। সংবাদ পেয়ে স্থানীয় অধিবাসীরা সঙ্গে সঙ্গে নদীতে নেমে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করলেও তীব্র স্রোতের কারণে তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরদিন বুধবার সকাল থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল এবং স্থানীয় জেলেদের যৌথ উদ্যোগে দিনভর উদ্ধার অভিযান চালানো হলেও কোনো সুসংবাদ পাওয়া যায়নি। অবশেষে নিখোঁজের ৪৪ ঘণ্টা পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে ফকিরদিয়া ঘাটের কাছে নদীর তীরে ফারিয়ার নিথর দেহ ভেসে ওঠে।
ফারিয়ার মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কাঁঠালকান্দি গ্রামে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছেন তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা। সন্তানহারা পিতা সাখাওয়াত হোসেন বিলাপ করতে করতে বলেন, "আমার মেয়েটা ভীষণ লক্ষ্মী আর পড়ালেখায় অনেক মেধাবী ছিল। নদীই শেষ পর্যন্ত আমার কোল খালি করে দিল।"
চাতলপাড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শোক প্রকাশ করে জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক এবং পরিষদ থেকে পরিবারের পাশে থাকা হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, লাশ উদ্ধারের বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন দুর্ঘটনা এড়াতে ছোট শিশুদের নদী বা জলাশয়ে গোসলের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।
এআইএল/সকালবেলা