গাজীপুরে আগুনে মসজিদসহ ১২ দোকান ভস্মীভূত
মহিউদ্দিন আহমেদ (বিশেষ প্রতিবেদক, গাজীপুর): গাজীপুরের শ্রীপুরে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একটি মসজিদসহ ১২টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান, মুরগির দোকান ও ভাঙারির দোকানসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২১ অক্টোবর) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে শ্রীপুর পৌরসভার চন্নাপাড়া গ্রামের ২ নম্বর সিএন্ডবি বাজারে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুনে বাজারের বাতুর রহমান জামে মসজিদসহ আশপাশের দোকানগুলো পুড়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মাওনা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার নুরুল করিম জানান, রাত ৩টা ৫৫ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরে শ্রীপুর ফায়ার স্টেশনের আরও একটি ইউনিট এবং রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যোগ দেয়।
তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সকাল ৫টা ৪৮ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। আগুনে ঝুট ও তুলার গুদাম, স্যানিটারি সামগ্রীর দোকান, মুরগির দোকান, ভাঙারির দোকানসহ একটি মসজিদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে এবং এতে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্যানিটারি দোকানের মালিক রফিক জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে পাশের একটি ঝুটের গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বাতুর রহমান জামে মসজিদসহ মোট ১২টি দোকানের মালামাল পুড়ে গেছে। আগুনে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গভীর রাতে আগুনের লেলিহান শিখা দেখতে পেয়ে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এ সময় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তাঁদের পক্ষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়নি। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন।
এদিকে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা তাঁদের দোকানের মালামাল হারিয়ে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্তের মাধ্যমে নিরূপণ করা হবে।
এআইএল/সকালবেলা