গুদাম ছাড়াই সারের ডিলারশিপ, কটিয়াদীতে খোকন এন্টারপ্রাইজকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

প্রকাশ: শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:২৪ অপরাহ্ণ
গুদাম ছাড়াই সারের ডিলারশিপ, কটিয়াদীতে খোকন এন্টারপ্রাইজকে ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ

নূর আহাম্মদ পলাশ (কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি): কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ২ নম্বর সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সার ডিলার নিয়োগকে কেন্দ্র করে খোকন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী খোকন মিয়ার (৫৫) বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় গুদাম বা সংরক্ষণ সুবিধা না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে প্রতিষ্ঠানটিকে সার ডিলারশিপ দেওয়া হলো, তা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোকন মিয়া দীর্ঘদিন ধরে মুদি দোকানের ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি তাঁর মালিকানাধীন খোকন এন্টারপ্রাইজকে সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ডিলারশিপের জন্য যে স্থানটি দেখানো হয়েছে, সেখানে সার সংরক্ষণের উপযোগী পর্যাপ্ত গুদাম বা অবকাঠামো রয়েছে কি না—তা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট স্থানে মুদি দোকানের কার্যক্রম চললেও সার সংরক্ষণ ও বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি। কৃষকদের প্রশ্ন, পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা ছাড়া কীভাবে সার সংরক্ষণ ও বিক্রির কার্যক্রম পরিচালিত হবে? এতে সারের গুণগত মান বজায় রাখা এবং কৃষকদের কাছে যথাসময়ে সার পৌঁছে দেওয়া নিয়েও গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বসতবাড়িসংলগ্ন সাধারণ মুদি দোকানকে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখিয়ে এবং পর্যাপ্ত গুদাম সুবিধা নিশ্চিত না করেই কীভাবে ডিলারশিপ পাওয়া গেল, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ডিলার নিয়োগে কোনো ধরনের রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা অনিয়ম কাজ করেছে কি না, সেটিও নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এদিকে, ডিলারশিপ নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে খোকন মিয়া নিজেই তাঁর আবেদনের সময়কার পরিস্থিতির কথা স্বীকার করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি যখন ডিলারশিপের জন্য আবেদন করি, তখন আমার মুদি দোকান ছিল। কৃষি কর্মকর্তারা পরিদর্শনে এলে তাঁদের বলেছিলাম, এটি আমার মুদি দোকান। আমাকে ডিলারশিপ দেওয়া হলে দোকানটি ভেঙে এখানেই সারের গোডাউন তৈরি করব।" এ সময় তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা চলমান রয়েছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।

এ বিষয়ে কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, "সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে সরকারি নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। তবে খোকন এন্টারপ্রাইজের নামে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। নিয়মনীতি লঙ্ঘন করে কিংবা উপযুক্ত গুদামজাতকরণ সুবিধা ছাড়া ডিলারশিপ দেওয়া হয়ে থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে। তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

অন্যদিকে কটিয়াদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, "আমরা যখন পরিদর্শনে গিয়েছিলাম, তখন সেখানে একটি বড় ঘর দেখেছি। এখন হয়তো তিনি সেটি ভেঙে অন্য কিছু তৈরি করতে পারেন। খোকন এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে যেহেতু অভিযোগ এসেছে, আমরা সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদন্ত করব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।"

এদিকে গৌরীপুর গ্রামটি সহশ্রাম-ধূলদিয়া ইউনিয়নের একেবারে শেষ প্রান্তে অবস্থিত হওয়ায় সেখান থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সার সংগ্রহে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের দাবি, ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে শুধু কাগজপত্র নয়, গুদামের বাস্তব অবস্থা, সার সংরক্ষণের সক্ষমতা এবং কৃষকদের যাতায়াতের সুবিধাও বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

স্থানীয় কৃষক ও সচেতন নাগরিকদের দাবি, খোকন এন্টারপ্রাইজের ডিলারশিপের আবেদনপত্র, নিয়োগের শর্ত, সরেজমিন পরিদর্শনের প্রতিবেদন এবং বর্তমানে গুদামের বাস্তব অবস্থা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্ত করা হোক। কৃষকদের স্বার্থ রক্ষা, সারের সুষ্ঠু সরবরাহ ও সরকারি নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।

এআইএল/সকালবেলা