সরকারি কর্মকর্তাদের নাগরিকদের আস্থার জায়গা হতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫০ অপরাহ্ণ
সরকারি কর্মকর্তাদের নাগরিকদের আস্থার জায়গা হতে হবে: চট্টগ্রামের ডিসি
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন ও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা ও অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

সরকারি কর্মকর্তাদের সততা, পেশাদারিত্ব, গভীর আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাধারণ মানুষের নাগরিকসেবা নিশ্চিত করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে স্পষ্ট করে বলেছেন, “আমাদের কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করতে হবে যে সরকারি কর্মকর্তারা ও দপ্তরগুলোই নাগরিকদের আসল আস্থার জায়গা। সরকারি দপ্তরে নিজের সমস্যা নিয়ে এসে সাধারণ মানুষ যেন পূর্ণ স্বস্তি পান এবং তাঁদের আইনি জটিলতার সঠিক সমাধান হয়, সেটি মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করতে হবে।”

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিট হস্তান্তর এবং পরিচ্ছন্নতা সচেতনতা উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন।

সরকারি চাকরির মূল লক্ষ্য স্মরণ করিয়ে দিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “সরকারি চাকরি মানে কেবল নিয়ম মেপে নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসা-যাওয়া করা কিংবা ফাইল সই করা নয়। জনগণের প্রতি ইতিবাচক দায়িত্ববোধই একজন কর্মকর্তার আসল পরিচয় ফুটিয়ে তোলে। আমাদের মনে রাখতে হবে—আপনার বা আমার এই সরকারি চেয়ারটি আজ আছে, কাল থাকবে না। কিন্তু রাষ্ট্র, দেশ ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে আমরা ব্যক্তিগতভাবে কী অবদান রেখে গেলাম, দিনশেষে সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।”

প্রশাসনিক কাজের গতি বহুগুণ বাড়ানোর জোর তাগিদ দিয়ে জাহিদুল ইসলাম মিঞা আরও বলেন, “সম্পদ বা সুবিধার সীমাবদ্ধতাকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করালে কোনো দিন কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। আধুনিক ও উন্নত বিশ্বের গতিধারার সঙ্গে তাল মেলাতে হলে সরকারি কর্মকর্তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও কাজের গতি আরও বৃদ্ধি করতে হবে। মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, চরম অপ্রতুলতা ও নানা প্রতিকূলতার মুখে দাঁড়িয়েও বীর মুক্তিযোদ্ধারা একতাবদ্ধ হয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। আজ জনগণের প্রত্যাশা পূরণেও আমাদের সেই একই ধরনের দৃঢ়তা, দেশপ্রেম ও দায়িত্ববোধের পরিচয় দিতে হবে।”

সাধারণ নাগরিকদের সাথে বিনয়ী ও মানবিক আচরণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ডিসি বলেন, “আইনের কাঠামোর বাইরে গিয়ে অনিয়ম করে কোনো কাজ করার প্রয়োজন নেই। তবে সরকারি অফিসে আসা সেবাপ্রার্থীদের কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনা, প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ দেওয়া এবং তাঁদের দুর্ভোগ লাঘবে আন্তরিক হওয়া প্রত্যেক সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নৈতিক দায়িত্ব।”

সাম্প্রতিক সামাজিক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশাসন, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ও সাধারণ জনগণের সম্মিলিত সমন্বিত প্রচেষ্টায় অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ও আনন্দময় পরিবেশে দুর্গোৎসব উদযাপন সম্ভব হয়েছে। এর মাধ্যমে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চমৎকার চিত্র আবারও ফুটে উঠেছে।

এ সময় জেলা প্রশাসক তরুণ প্রজন্মের সার্বিক বিকাশ, সামাজিক মূল্যবোধ গঠন, সরকারি অর্থ ব্যয়ে শতভাগ স্বচ্ছতা রক্ষা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি চলমান ডেঙ্গু প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর তিন মাসব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি এবং জেলা প্রশাসনের বিশেষ ‘নান্দনিক চট্টগ্রাম’ উদ্যোগের আওতায় প্রতিটি ইউনিয়নে প্রতি শনিবার নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। সঠিক উদ্যোগ নিলে কঠিন কাজও সম্ভব উল্লেখ করে তিনি জানান, চট্টগ্রাম জেলা ক্রীড়া সংস্থার (সিজেকেএস) সংলগ্ন এলাকা থেকে দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে জমে থাকা প্রায় ২৫০ ট্রাক বর্জ্য সফলভাবে অপসারণ করা হয়েছে।

আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মহিন উদ্দিনের প্রশাসনিক সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) পাঠান মো. সাইদুজ্জামানসহ জেলা ও উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

আলোচনা অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় চত্বর থেকে আনোয়ারা থানা পর্যন্ত ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রা শেষে আনোয়ারা থানা ভবনের ভেতরের ডোবা ও পুকুরে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়।