পঞ্চমবারের মতো চলছে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা গণনা

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:০৯ অপরাহ্ণ
পঞ্চমবারের মতো চলছে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের টাকা গণনা
সিলেট জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ডেকচি থেকে পাওয়া নগদ টাকা গণনার চিত্র।

সিলেটের বিশ্বখ্যাত আধ্যাত্মিক কেন্দ্র হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহ্যবাহী ডেকচিতে জমাকৃত নগদ অর্থ পঞ্চমবারের মতো জনসমক্ষে প্রকাশ্যে গণনা করা হচ্ছে।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সরাসরি নজরদারি ও উপস্থিতিতে মাজার প্রাঙ্গণে আনুষ্ঠানিকভাবে এই গণনা কার্যক্রম শুরু হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মাজারের দানবাক্স ও ডেকচি থেকে দেশীয় বিপুল পরিমাণ নগদ কাগজের নোট ও মুদ্রার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা এবং স্বর্ণ-রুপা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিজেদের নানা অভাব-অভিযোগ, আকুতি এবং মানতসংবলিত অজস্র চিঠিও পাওয়া গেছে।

মাজারের বর্তমান আর্থিক ও পরিচালনা ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, “আমরা আজ ১ মাস ৮ দিন পর পঞ্চমবারের মতো স্বচ্ছতার সাথে মাজারের দানের টাকা গণনা করছি। মাজারের সার্বিক আর্থিক কার্যক্রম প্রতিদিন তদারকি ও পরিচালনার জন্য স্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের প্রক্রিয়া দ্রুতগতিতে চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে আগ্রহী প্রার্থীদের বায়োডাটা (সিভি) জমা পড়েছে। আশা করছি আগামী মাসের মধ্যেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। এরপর থেকে নিয়মিত প্রতিদিনের দানের টাকা প্রতিদিন গণনার স্থায়ী ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।”

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় মাজারের ৩টি বিশেষ ডেকচি ও ৫টি দানবাক্স উন্মুক্ত করে গণনা করা হয়েছিল। ওই দিন রেকর্ড ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা নগদ উদ্ধার করা হয়। একই সাথে ১ ভরি ৯ আনা ২ রতি স্বর্ণ এবং বিশ্বের ১৫টি দেশের বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গিয়েছিল।

তারও আগে, গত ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৩টি দানবাক্স ও ৫টি ডেকচি থেকে ৭০ লাখ ৮৮ লাখ ৬৭২ টাকা, ২ ভরি ১ রতি স্বর্ণ এবং ১৬ ভরি ২ আনা রুপা উদ্ধার করা হয়। গত ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৬টি দানবাক্স থেকে ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা এবং প্রথম দফায় গত ২২ জুন ৮টি দানবাক্স থেকে ১৭ লাখ ৬২ হাজার ৫৪৯ টাকা পাওয়া যায়।

হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের ঐতিহাসিক আর্থিক ব্যবস্থাপনায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফিরিয়ে আনতে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাজারে প্রাপ্ত মোট দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হবে, যা জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ পরিচালনাধীন সোনালী ব্যাংকের একটি বিশেষ হিসাবে জমা থাকবে। আর অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয় এবং কর্মরত স্টাফদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।

আর্থিক স্বচ্ছতা রক্ষায় একজন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি বা সেনা কর্মকর্তার অধীনে ব্যবস্থাপক, হিসাবরক্ষক ও অফিস সহকারী সমন্বয়ে একটি নিবেদিত টিম গঠন করা হচ্ছে। এ ছাড়া মাজারের নিরাপত্তা, উন্নয়ন ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সিলেট সিটি কর্পোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা পরিষদের প্রতিনিধিদের নিয়ে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের একটি সমন্বিত তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে।