একটি দলের প্রধান নেতা চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন: রাশেদ খাঁন

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৬ অপরাহ্ণ
একটি দলের প্রধান নেতা চুমু দেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছেন: রাশেদ খাঁন
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচিত ইস্যুতে বক্তব্য প্রদানকারী প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁনের একটি ফাইল ছবি।

নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে সর্বসাধারণ বা শিশুদের চুমু দেওয়ার মতো একটি অপ্রত্যাশিত সংস্কৃতি চালু করেছেন বলে তীব্র মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। তাঁর মতে, সংশ্লিষ্ট ওই নেতা হয়তো কোনো নেতিবাচক উদ্দেশ্যে কাউকে চুমু দেন না বা স্বাভাবিক ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান; তবে দলপ্রধানের সেই আচরণে প্রভাবিত হয়ে অন্যরা একই কাজ করলে কিংবা সমাজ-মাদ্রাসার দুশ্চরিত্র সুযোগসন্ধানী ব্যক্তিরা শিশুদের দিকে কুনজর দিলে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, তা গাজীপুরের টঙ্গীর সাম্প্রতিক অনভিপ্রেত ঘটনায় ফুটে উঠেছে।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ চিন্তাশীল পোস্টে তিনি এসব কথা লেখেন। তবে কৌশলগত কারণে তিনি উক্ত রাজনৈতিক দল কিংবা দলটির শীর্ষপ্রধানের নাম সরাসরি প্রকাশ করেননি।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি মাদ্রাসায় সাত বছর বয়সী এক কোমলমতি ছাত্রীশিক্ষার্থীকে অশালীনভাবে স্পর্শ ও চুমু দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ ওঠে ওই প্রতিষ্ঠানের ভাইস প্রিন্সিপাল শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ওই শিশুটির বাবা সরাসরি মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে প্রকাশ্যে চড় মারেন এবং অশালীন আচরণের সত্যতা আদায় করেন। ঘটনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে সারাদেশে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

টঙ্গীর ঘটনাপ্রবাহ টেনে নিজের ফেসবুক পোস্টে মো. রাশেদ খাঁন স্পষ্ট করে লেখেন, “চুমু দেওয়া কোনো শিক্ষকের নৈতিক কাজ নয়, এমনকি একজন দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতারও কাজ নয়। টঙ্গীতে ৭ বছরের এক শিশু ছাত্রীকে অভিযুক্ত শিক্ষক কর্তৃক চুমু দেওয়া এবং পরবর্তীতে ওই শিশুটির ক্ষুব্ধ বাবার মাধ্যমে শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনা সারাদেশে ব্যাপক আলোচনার তোড়জোড় সৃষ্টি করেছে। পুরো বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে অগণিত বাবা-মা তাঁদের সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কা প্রকাশ করছেন।”

তিনি আরও সংযোজন করেন, “আবার এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুযোগসন্ধানী কেউ কেউ ঢালাওভাবে পুরো মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও বিমুখী ক্যাম্পেইন চালাতে উন্মুখ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু চরম সত্যি হলো—কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধ বা পদস্খলনের দায় পুরো পবিত্র মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থার ওপর চাপানো যায় না, তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা চলে না। ক্ষতিগ্রস্ত শিশুটির বাবাও তাঁর সাক্ষাৎকারে অত্যন্ত পরিপক্কভাবে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।”

দেশের সর্বস্তরের আলেমে দ্বীন ও মাদ্রাসা শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক সহকারী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের অপরাধ রুখতে দেশের মাদ্রাসার শ্রদ্ধেয় শিক্ষকরাই নিজস্ব উদ্যোগ ও কঠোর আইনি প্রক্রিয়ায় উপযুক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন এবং সাধারণ জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।

সন্তানের সার্বিক নিরাপত্তা বিষয়ে রাশেদ খাঁন গভীর আবেগ প্রকাশ করে লেখেন, “আমাদের সব বাবা-মায়ের কাছে নিজের সন্তান মহান আল্লাহর দেওয়া এক পবিত্র আমানত। এই পবিত্র আমানতের দিকে কোনো পাপিষ্ঠ কুনজর বা অনৈতিক হাত বাড়ালে বাবা-মায়ের ক্ষুব্ধ ও বেপরোয়া হওয়া খুবই স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া। কিন্তু একটা মৌলিক বিষয় আমরা ভুলে গেলে চলবে না—আমাদের দেশের একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নেতা প্রকাশ্যে এমন হুটহাট চুমু দেওয়ার এক অদ্ভুত সংস্কৃতি চালু করেছেন। হয়তো অবোধ শিশু বা কারও প্রতি স্বাভাবিক স্নেহ কিংবা আদরের অনুভূতি থেকে তিনি চুমু দেন। কিন্তু তাঁর এই আচরণ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অন্য কেউ যখন সমাজে এই আবেগ প্রকাশ করতে যায় কিংবা দুশ্চরিত্র সুযোগ সন্ধানীরা শিশুদের ওপর কুনজর দেওয়ার অজুহাত হিসেবে একে ব্যবহার করে, তখন এর পরিণতি কত জঘন্য রূপ নিতে পারে, সেটি টঙ্গীতে খুব ভালোভাবে পরিলক্ষিত হয়েছে।”

পোস্টের শেষাংশে দলপ্রধানদের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ চর্চার তাগিদ দিয়ে তিনি লেখেন, “আমি আবারও বলছি, আমি দাবি করছি না যে সেই বিশেষ দলের প্রধান নেতা কোনো অশালীন বা নেতিবাচক সেন্স থেকে এই চুমু দিয়ে ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। তবে বর্তমান সামাজিক বাস্তবতা ও পারিপার্শ্বিক প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্যে এ ধরনের চুমু দেওয়া কিংবা স্পর্শ করা যেকোনো শিশু কিংবা সাধারণ ব্যক্তির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে। আশা রাখি, টঙ্গীর এই দুঃখজনক ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে ওই দলের প্রধান নেতাসহ সকলেই নিজেদের সংশোধন করে নেবেন।”