ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জামায়াতের

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৩১ অপরাহ্ণ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি জামায়াতের
ঠাকুরগাঁও শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের দাবি তুলে বক্তব্য রাখছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিঞা গোলাম পরওয়ার।

আসন্ন ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সবকটি ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের কারচুপি ছাড়া নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ, স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ভোট গণনা এবং সঠিক ফলাফল প্রকাশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে অবিলম্বে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জোর দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিঞা গোলাম পরওয়ার।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও জেলা শহরের একটি রেস্তোরাঁয় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করেন।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করে মিঞা গোলাম পরওয়ার বলেন, “নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে যুক্তি দেওয়া হচ্ছে—জাতীয় নির্বাচনে সারা দেশে একযোগে ভোট হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যসংখ্যা তুলনামূলক অপ্রতুল থাকায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়েছিল। কিন্তু ঠাকুরগাঁও-১ আসনে যেহেতু একক উপনির্বাচন, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাধারণ সদস্য সংখ্যা তিন গুণ বাড়িয়ে দিলেই চলবে এবং সেনাবাহিনী মোতায়েনের কোনো প্রয়োজন নেই। তবে বাস্তব সত্য হলো, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। শুধুমাত্র প্রথাগত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়িয়ে দিলেই নির্বাচন শতভাগ নিরপেক্ষ হবে—এমন কোনো গ্যারান্টি বা নিশ্চয়তা নেই।”

পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত মহাসচিব আরও বলেন, “আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, সাধারণ পুলিশ প্রশাসন সব সময় ক্ষমতাসীন ও বলবৎ শাসকমহলের চরম অনুগত হয়ে কাজ করে। যদি তারা মাঠপর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীর পক্ষে ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখল বা নির্বাচনী ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতা করে, তবে সাধারণ বাহিনীর সদস্য সংখ্যা কয়েক গুণ বাড়ালেও সেখানে নিরপেক্ষতা ফিরিয়ে আনা কখনোই সম্ভব হবে না।”

নির্বাচনের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “ভোটকেন্দ্রে সাধারণ ভোটারের ভোটাধিকার প্রয়োগ, নিরপেক্ষ ভোট গণনা এবং গণমাধ্যমের সামনে সঠিক ফলাফল ঘোষণা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে যাতে কোনো ধরনের সুক্ষ্ম বা স্থূল কারচুপি কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং না ঘটতে পারে, সে জন্য সাধারণ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দৃশ্যমানভাবে সেনাটহল ও সেনাবাহিনী মোতায়েন একান্ত প্রয়োজন।”

১১ দলীয় রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে জামায়াত নেতা বলেন, “নির্বাচনী আসন একটি হোক কিংবা একাধিক, গণতন্ত্রের স্বার্থে সেই নির্বাচনের অবাধ নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়ে আমরা ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন কমিশনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।”

সাংবাদিকদের সাথে আয়োজিত উক্ত মতবিনিময় সভায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোট সমর্থিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ সিবগা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েমসহ ১১ দলীয় ঐক্যজোটের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।