ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার গোসিঙ্গা ইউনিয়নে অবস্থিত কর্ণপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি বর্তমানে তীব্র শিক্ষার্থী সংকটে ধুঁকছে। পর্যাপ্ত শিক্ষার্থীর অভাব, শিশুদের খেলার মাঠ না থাকা এবং দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে বিদ্যালয়টির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। মাত্র ৫০-৬০ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ৫ জন শিক্ষক কর্মরত থাকলেও সঠিক তদারকির অভাবে প্রতিষ্ঠানটি কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়টিতে গিয়ে দেখা যায়, মাঠ পর্যায়ে কোনো শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নেই। একটি কক্ষের দরজা বন্ধ করে ৫ জন শিক্ষককে বসে থাকতে দেখা গেছে। ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে একটি দ্বিতল ভবন থাকলেও শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য নিজস্ব কোনো জায়গা নেই। বিদ্যালয়ের সামনের একটি সরকারি পুকুর ভরাট করে মাঠ তৈরির প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা এখনো খেলার উপযোগী হয়নি। এমনকি জায়গার সংকটের কারণে বিদ্যালয়ে আধুনিক ওয়াশব্লক নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যালয়ের সামনে টিনের ছাপড়া দিয়ে তৈরি করা অস্বাস্থ্যকর টয়লেট ব্যবহার করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।
তথ্য সংগ্রহের শুরুতে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও পরে জানা যায়, বিদ্যালয়টিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ৬৭ জন। এর মধ্যে পঞ্চম শ্রেণিতে ৭ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ১১ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ১৬ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ১৪ জন এবং প্রথম শ্রেণিতে ১৯ জন শিক্ষার্থী ভর্তি রয়েছে। তবে সর্বশেষ বার্ষিক পরীক্ষায় কতজন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো লিখিত নথি বা প্রমাণ দেখাতে পারেননি প্রধান শিক্ষক। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের দুর্বল মনিটরিং ব্যবস্থার কারণেই নামমাত্র শিক্ষার্থী নিয়ে এমন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বিদ্যালয়টি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা বেগম শিক্ষার্থী সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, খেলার মাঠ না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমে যাচ্ছে। এছাড়া আশপাশে আরও কয়েকটি বেসরকারি ও সরকারি বিদ্যালয় থাকায় অভিভাবকরা সন্তানদের সেখানে নিয়ে যাচ্ছেন। গাজীপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদ ভুইয়া এ প্রসঙ্গে জানান, কর্ণপুর গুচ্ছগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই অচলাবস্থার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এম.এম/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ