মৌলভীবাজারে নরমাল ডেলিভারিতে শীর্ষে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

মৌলভীবাজারে নরমাল ডেলিভারিতে শীর্ষে শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

তিমির বনিক, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও স্বাস্থ্যসেবা ওয়েবসাইট DHIS2-এর সর্বশেষ তথ্যানুসারে, ২০২৫ সালে মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক নরমাল ডেলিভারি সম্পন্ন করার গৌরব অর্জন করেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। গত এক বছরে এই প্রতিষ্ঠানটিতে মোট ২ হাজার ৯৬টি নরমাল ডেলিভারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা জেলার অন্য সব উপজেলার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি জরুরি ও জটিল পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটিতে ৮১ জন প্রসূতির সফল সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, এই সিজার অপারেশনগুলো সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে আগের ডেলিভারি সিজার ছিল এমন মায়েদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে স্থায়ী কোনো গাইনি বিশেষজ্ঞ পদায়িত নেই। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ সিনথিয়া তাসমিনের বিশেষ উদ্যোগে এই সংকট মোকাবিলা করা হচ্ছে। তাঁর সমন্বয়ে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতাল থেকে সপ্তাহে একদিন গাইনি কনসালটেন্ট ডাঃ ফারজানা হক পর্ণা এসে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারগুলো পরিচালনা করছেন। সীমিত জনবল ও চিকিৎসক সংকটের মধ্যেও এই মডেলটি জেলায় ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ সিনথিয়া তাসমিন বলেন, “আমরা গ্রামীণ পর্যায়ের প্রতিটি মায়ের প্রাতিষ্ঠানিক ও নিরাপদ ডেলিভারি নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর। তাই বাসায় ঝুঁকি না নিয়ে গর্ভবতী মায়েদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি। আমরা সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও সর্বোচ্চ মানসম্মত সেবা দিতে সচেষ্ট।”

উপজাতীয় ও চা-বাগান অধ্যুষিত এই এলাকায় মাতৃস্বাস্থ্য সেবার এই আমূল পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। আব্দুল মান্নান নামে এক সেবাগ্রহীতা জানান, প্রায় ৩ লাখ মানুষের চিকিৎসার ভার যেখানে হাতেগোনা কয়েকজন চিকিৎসকের কাঁধে, সেখানে এই সাফল্য সত্যিই অভাবনীয়। এটি গ্রামীণ পর্যায়ে মাতৃস্বাস্থ্য সেবার একটি অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাতিষ্ঠানিক ডেলিভারি মাতৃ ও নবজাতকের মৃত্যুঝুঁকি কমাতে সরাসরি ভূমিকা রাখে। শ্রীমঙ্গল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এই ধারাবাহিক সাফল্য জেলার সার্বিক স্বাস্থ্য খাতের জন্য এক বড় অর্জন।

এম.এম/সকালবেলা

মন্তব্য করুন