পীরগাছায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম

পীরগাছায় ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে গুরুতর অনিয়ম

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুরের পীরগাছায় প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিজ্ঞ ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বাদ দিয়ে নীতিমালা লঙ্ঘন করে সাবেক ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ নেতা, নন-এমপিও শিক্ষক এবং বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মচারীদের গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, পীরগাছায় প্রায় ৩০০ জন প্রথম শ্রেণির (৯ম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড) কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও মাত্র ৯০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পদে দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা ও প্রকল্পের ১৫ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন, আব্দুস সালাম ও মুকুল চন্দ্র রায়কে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এমনকি প্রাণিসম্পদ বিভাগের এলডিডিপি প্রকল্প ও ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতিদের মতো বিতর্কিত ব্যক্তিদেরও এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাল সনদে চাকরি করার অভিযোগ থাকা চর রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবাস চন্দ্রকেও সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ পাহাড়সমান। আওয়ামী লীগ নেত্রীর ছোট ভাই ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতাদের পাশাপাশি যক্ষ্মা প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের অনিয়মিত কর্মচারীদেরও নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম এক শক্তিশালী দালাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। প্রশিক্ষণরত ও অসুস্থ শিক্ষকদের নাম তালিকা থেকে কাটতে এবং নতুন নাম সংযোজন করতে এই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ বাণিজ্য চলছে বলে শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগের বিষয়ে একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম সমস্ত দায় মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ওপর চাপিয়ে দিয়ে বলেন, তিনি কেবল ইউএনও’র আদেশ পালন করছেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক জানিয়েছেন, কোনো নির্দিষ্ট ভুল বা অনিয়মের অভিযোগ পেলে তা তদন্ত সাপেক্ষে সংশোধন করা হবে।

মন্তব্য করুন