ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
সাইফুল ইসলাম >>>
বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার কাঠামোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তর হলো জেলা পরিষদ। ১৯৬৯ সালের প্রণীত আইনের অধীনে ‘বেসিক ডেমোক্রেসি’ পদ্ধতির মাধ্যমে ‘ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল’ হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণে কার্যত সীমাবদ্ধ ছিল এবং সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য। কিন্তু ২০১৬ সালের এই নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের মাধ্যমে জেলা পরিষদ গঠনের ফলে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হয়।
এর আগে জেলা পরিষদ ছিল জেলা প্রশাসকদের অধীনে একটি সহায়ক সংস্থা। ২০০০ সালের জেলা পরিষদ আইন এই কাঠামোকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করলেও মাঠ পর্যায়ে এর বাস্তবায়ন ছিল সীমিত। ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের নেতৃত্বে জেলা পরিষদ গঠিত হলেও তা পূর্ণ স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা অর্জন করতে পারেনি। বিশেষ করে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভাসহ অন্যান্য স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা ছিল দীর্ঘদিনের একটি চ্যালেঞ্জ।
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর আসে নতুন সম্ভাবনা। এখন ৪২ জন নতুন প্রশাসক নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ‘সুশাসনের রোডম্যাপ’ নিয়ে আলোচনা চলছে, যা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে জেলা পরিষদ সরাসরি জনগণের মনোনিবেশে কাজ করার সুযোগ পাচ্ছে।
একটি জনবান্ধব জেলা পরিষদের মূল কাজ হওয়া উচিত গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রসার এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা। অতীতে দেখা গেছে, অনেক বড় বড় প্রকল্প আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে আটকে থাকত অথবা সাধারণ মানুষের চাহিদার সঙ্গে তার মিল থাকত না।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে জেলা পরিষদ প্রশাসকদের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে স্থানীয় পর্যায়ের সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি সুসমন্বয় তৈরি করা। টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জেলা পরিষদ একটি জেলার উন্নয়নের ‘পাওয়ার হাউস’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রীর আজকের এই বক্তব্য থেকে যে বার্তা স্পষ্ট, তা হলো— জেলা পরিষদ যেন আমলাতান্ত্রিক বেড়াজাল থেকে বেরিয়ে এসে একটি সেবাকেন্দ্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। যদি জেলা পরিষদ প্রশাসকরা আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করেন, তবে ‘ডিস্ট্রিক্ট কাউন্সিল’ থেকে ‘জেলা পরিষদ’ হওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা সার্থক হবে। আমার আশা করি, এই যাত্রায় জেলা পরিষদ শুধু সরকারি আদেশ পালনকারী সংস্থা নয়, বরং স্থানীয় সমস্যার স্থানীয় সমাধানকারী একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ