মহিউদ্দিন আহমেদ, শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি: ‘দামে কম মানে ভালো’—এই একটি স্লোগানে করোনাকালে দেশজুড়ে ভাইরাল হওয়া ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া গাজীপুরের শ্রীপুরের সেই ‘কাকলী ফার্নিচার’ আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। স্বজনদের চরম বিশ্বাসভঙ্গ, অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার কারণে একসময়ের সফল এই প্রতিষ্ঠানটি এখন দেউলিয়া হওয়ার পথে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মাওনা চৌরাস্তায় অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন কাকলী ফার্নিচারের চেয়ারম্যান এস এম সোহেল রানা। লিখিত বক্তব্য পাঠ করার একপর্যায়ে তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়লে উপস্থিত সবার মাঝে এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এস এম সোহেল রানা অভিযোগ করেন, তার আপন বোন কাকলী আমান ও ভগ্নিপতি আমান উল্লাহ পারিবারিক বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানের অর্থ, জমি ও যানবাহন আত্মসাৎ করেছেন। তিনি জানান, তার বাবা মরহুম আবুল কাশেম ২০০০ সালের দিকে অক্লান্ত পরিশ্রম ও সততা দিয়ে এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছিলেন। পরবর্তীতে পারিবারিক সিদ্ধান্তে বোন জামাই আমান উল্লাহকে ব্যবসায় যুক্ত করা হয় এবং তাকে অলিখিতভাবে অংশীদার করা হয়। কিন্তু এই সরল বিশ্বাসই পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়। ব্যবসার লভ্যাংশ দিয়ে কেনা ছয়টি জমির কোনো হিসাব না দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন প্রায় ৩০-৩৫ লাখ টাকা মূল্যের পিকআপ ভ্যান ও প্রাইভেটকার জোরপূর্বক ব্যক্তিগত দখলে রাখার অভিযোগ করেন তিনি। এছাড়া ২০১৬ সাল থেকে যৌথ মালিকানাধীন একটি বাড়ি তারা এককভাবে দখল করে ব্যবহার করছেন।
চেয়ারম্যান সোহেল রানা আরও জানান, হিসাবের ব্যাপক অনিয়মের কারণে বর্তমানে কাকলী ফার্নিচারের নামে প্রায় ২ কোটি টাকা ব্যাংক ঋণ এবং পাওনাদারদের আরও প্রায় ১ কোটি টাকার দেনা তৈরি হয়েছে। বিপুল এই ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। পাওনা ও হিসাবের কথা বললে প্রতিপক্ষরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি সম্প্রতি কাউন্টারে বসে থাকা অবস্থায় আমান উল্লাহর বাবা জালাল উদ্দিন ফরাজি তাকে বেতের লাঠি দিয়ে অতর্কিত মারধর করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্বজনদের এমন অমানবিক আচরণ ও প্রতারণায় তিনি মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনের শেষভাগে সোহেল রানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, যে প্রতিষ্ঠানটি ‘দামে কম মানে ভালো’ স্লোগানে সারাদেশে ভাইরাল হয়ে সুনাম কুড়িয়েছিল, আজ সেটি আপন মানুষের ষড়যন্ত্রে ধ্বংস হতে চলেছে। তিনি তার মৃত পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি ও প্রতিষ্ঠানের অধিকার ফিরে পেতে এবং অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে প্রশাসন ও দেশবাসীর কাছে ন্যায়বিচারের আবেদন জানান। সংবাদ সম্মেলনে সোহেল রানার পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থেকে এই দাবির প্রতি মৌন সমর্থন জানান। স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজ ও শুভানুধ্যায়ীরাও এমন একটি সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান রক্ষায় কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এম.এম/সকালবেলা