ভালুকায় শিল্পবর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশ: বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ০২:৩৮ অপরাহ্ণ
ভালুকায় শিল্পবর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী

মোঃ জাকির হোসাইন রাজু, ময়মনসিংহ (ভালুকা) প্রতিনিধি: শিল্পবর্জ্যে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার কৃষিজমি ও দূষণকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম এমপি। 

আজ বুধবার (২৪ জুন) সকালে তিনি সরেজমিনে ভরাডোবা ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

মন্ত্রণালয় ও উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৯টায় প্রতিমন্ত্রী প্রথমে ‘এক্সপেরিয়েন্স টেক্সটাইল মিল’ (স্থানীয়ভাবে পাকিস্তানি মিল নামে পরিচিত)-এর রাসায়নিক মিশ্রিত রঙের পানি এবং ‘মুলতাজিম স্পিনিং মিল’ ও ‘আরএস এগ্রো’ গরুর খামারের বর্জ্যে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি পরিদর্শন করেন। এসব কারখানা ও খামার থেকে নির্গত বর্জ্য সরাসরি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ায় বিস্তীর্ণ ফসলি জমি, খাল ও জলাশয় মারাত্মকভাবে দূষিত হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ, জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে সকাল ১০টায় ভালুকা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এক বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এ সভায় পরিবেশ দূষণের ক্ষতিকর দিক এবং এর প্রতিকার ও উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ ও জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।

সভায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিল্প মালিক ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা অংশ নেন। ভরাডোবা ইউনিয়নের কৃষক প্রতিনিধি ইঞ্জিনিয়ার মো. রুহুল আমিন ভুক্তভোগীদের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে জানান, কারখানার অপরিকল্পিত বর্জ্য অপসারণের ফলে এলাকার কৃষি অর্থনীতি ও পরিবেশ এখন চরম হুমকির মুখে। এ সময় ভুক্তভোগীরা সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর সামনে নিজেদের ক্ষয়ক্ষতি তুলে ধরে স্থায়ী প্রতিকার ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।

সভায় দূষণ নিয়ন্ত্রণে ইটিপি (বর্জ্য শোধনাগার) স্থাপন ও নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। প্রশাসন জানিয়েছে, শিল্পায়নের ধারা বজায় রেখে পরিবেশ রক্ষার একটি টেকসই সমাধান সূত্র খোঁজার চেষ্টা চলছে। প্রতিমন্ত্রীর এই সফরের পর দীর্ঘদিনের দূষণ সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন