ঝরে পড়া চুলই এখন আয়ের উৎস
ফুলবাড়ীর ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের নলডাঙ্গা গ্রামের জহুরুল শেখের খোলানের একপাশে সকাল ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে এই চুল বাছাইয়ের কর্মযজ্ঞ। ১৬ জন নারী শ্রমিকের এই দলে দলনেত্রী হিসেবে কাজ করছেন জহুরা বেগম। তিনি জানান, শুধু নলডাঙ্গা নয়, পার্শ্ববর্তী গোয়ালপাড়া, খয়েরবাড়ী ডাঙ্গা ও শিবপুরসহ উপজেলার প্রায় সব গ্রামেই নারীরা এই কাজে যুক্ত হয়েছেন।
নারীরা মূলত মেয়েদের মাথা থেকে ঝরে পড়া জট পাকানো চুলের গুটিগুলো কাটা দিয়ে ছাড়িয়ে পরিষ্কার করেন। এরপর সেই চুলগুলোকে ডিটারজেন্ট ও শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে প্রক্রিয়াজাত করা হয়। স্থানীয় ম্যানেজার আরজন আলীর তথ্যমতে, ফুলবাড়ী উপজেলার ১২টি কেন্দ্রে এমন অন্তত ৪ হাজার নারী এই পেশায় যুক্ত আছেন। এই চুলগুলো ধাপে ধাপে নবাবগঞ্জের মতিহারা কারখানা হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয় এবং পরিশেষে চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়।
একজন সাধারণ নারী শ্রমিক প্রতিদিন ৭০ টাকা এবং দলনেত্রী হিসেবে ৮০ টাকা মজুরি পান। সে হিসেবে মাসে একজন শ্রমিকের আয় দাঁড়ায় ২১০০ থেকে ২৪০০ টাকা। রাজিয়া বেগম ও মনিকা বেগমের মতো শ্রমিকরা জানান, সংসারের কাজ সামলে অলস সময় না কাটিয়ে এই কাজ করায় তাদের সংসারে কিছুটা হলেও আর্থিক সহায়তা হচ্ছে।
প্রক্রিয়াজাতকৃত চুলের দৈর্ঘ্য অনুযায়ী এর বাজারদর নির্ধারিত হয়। ৬ ইঞ্চি চুল ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে শুরু করে ২২-৩২ ইঞ্চি সাইজের সর্বোচ্চ গ্রেডের চুল কেজিপ্রতি ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়।
বাজারে নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের কারণে এই সামান্য আয় দিয়ে পুরো সংসার চালানো কঠিন হলেও, বেকারত্বের গ্লানি মুছে কর্মসংস্থানের এই সুযোগে ফুলবাড়ীর গ্রামীণ নারীরা আজ স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।
জান্নাত সকালবেলা
|