ঝুপড়ি ঘরে জরিনার মানবেতর জীবন
মোস্তাফিজুর রহমান, কয়রা (খুলনা): খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের পাথরখালী খালের গোড়া এলাকায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধের ওপর পলিথিন ও খড়ের তৈরি এক চিলতে ঝুপড়ি ঘরে নাতি-নাতনিসহ পাঁচ সদস্য নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন ৬৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা জরিনা খাতুন। একদিকে সুন্দরবনের হিংস্র বাঘ আর অন্যদিকে শাকবাড়ীয়া নদীর নোনা পানির প্রাত্যহিক লড়াইয়ের মাঝেই চার বছর আগে স্বামীহারা এই বৃদ্ধার দিন কাটছে চরম নিরাপত্তাহীনতায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৫-৬ বছর আগে ঘূর্ণিঝড় 'আম্পান' ও শাকবাড়ীয়া নদীর ক্রমাগত ভাঙনে পৈতৃক ও স্বামীর ভিটেমাটি সম্পূর্ণ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় জরিনার। মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু হারিয়ে নিরুপায় হয়ে তিনি এই সরকারি বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেন। চার-পাঁচ বছর আগে স্বামী মকবুল শেখের মৃত্যুর পর থেকে তাঁর পরিবার চরম অর্থকষ্টে পড়ে।
বর্তমানে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তাঁর তরুণ নাতি, যিনি সুন্দরবনের নদী-খালের মাছের ওপর নির্ভরশীল। তবে জুনের শুরু থেকে তিন মাসের জন্য সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশাধিকার ও মাছ ধরা বন্ধ থাকায় বর্তমানে তাঁদের আয়ের পথ সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ। ফলে প্রায়শই অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটছে তাঁদের। এর পাশাপাশি এলাকায় মিষ্টি জলের তীব্র সংকট থাকায় প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাঁদের। সরকারিভাবে তিনি কেবল নামমাত্র 'বিধবা ভাতা' পান, যা দিয়ে এই বাজারে ৫ জনের সংসার চালানো অসম্ভব।
উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য অশোক কুমার শীল জানান, "জরিনা খাতুনের পরিবার সত্যিই অনেক কষ্টে আছে। বর্ষার ঝুঁকির কথা চিন্তা করে আমি বেসরকারি সংস্থা 'কারিতাস'-এর একটি গৃহনির্মাণ প্রকল্পে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। কিন্তু তাঁরা পৈতৃক পাথরখালী এলাকা ছেড়ে নতুন জায়গায় যেতে রাজি না হওয়ায় ঘরটি অন্যকে দিতে হয়েছে। নতুন কোনো আবাসন প্রকল্প এলে তাঁদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"
বাংলাদেশ মানবাধিকার ব্যুরো, কয়রা উপজেলা শাখার সহ-সভাপতি মোনায়েম বিল্লাহ বলেন, "জরিনা খাতুনের মতো জলবায়ু-উদ্বাস্তু প্রবীণ নাগরিকরা মৌলিক অধিকার ও সুপেয় পানির সংকট নিয়ে বাঁচছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। আসন্ন বর্ষার আগেই জরুরি ভিত্তিতে তাঁকে টিন, খুঁটি বা একটি নিরাপদ বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।"
এআইএল/সকালবেলা
|