বোচাগঞ্জের ১২০ স্কুলে যাচ্ছে আয়শা ফ্যাক্টরির বনরুটি

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬, ০৪:৪৩ অপরাহ্ণ
বোচাগঞ্জের ১২০ স্কুলে যাচ্ছে আয়শা ফ্যাক্টরির বনরুটি

তাজুল ইসলাম, দিনাজপুর প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরল উপজেলার নিজামপুর তেতুলতলার ‘আয়শা ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’র তৈরি বনরুটি এখন বোচাগঞ্জ উপজেলার ১২০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচির আওতায় সরবরাহ করা হচ্ছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন’ (ESDO)-এর যৌথ বাস্তবায়নে বোচাগঞ্জ উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় এই বিশেষ কার্যক্রম পুরোদমে চালু রয়েছে।

স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের দৈনিক পুষ্টি ও প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে দারুণ ভূমিকা রাখছে। কর্মসূচির আওতায় সপ্তাহে ৫ দিন টিফিনের সময় শিক্ষার্থীদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া হয়। এই খাদ্য তালিকায় সাধারণত সেদ্ধ ডিম, কলা এবং বনরুটি বা বিস্কুট থাকে। ঢাকা কাবু বাজারের ‘সমতা ট্রেডার্স’ এর মাধ্যমে এই খাদ্য সামগ্রী সরবরাহ করা হচ্ছে, যার বনরুটি জোগান দিচ্ছে বিরলের ‘আয়শা ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’।

শিক্ষকরা জানান, আগে অনেক শিশু দুপুরের দিকে ক্ষুধার কারণে বাড়ি চলে যেত বা নিয়মিত স্কুলে আসত না। কিন্তু এই পুষ্টিকর খাবার দেওয়ার পর থেকে বোচাগঞ্জের বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ৯০-৯৫% এ উন্নীত হয়েছে এবং ঝরে পড়ার হার অনেক কমেছে। দুপুরের টিফিনে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় শিশুরা এখন ক্লাসে অনেক বেশি মনোযোগী হতে পারছে। এছাড়া, একসাথে সুশৃঙ্খলভাবে খাবার গ্রহণ করার ফলে শিশুদের মাঝে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও শৃঙ্খলার মতো গুণাবলি গড়ে উঠছে।

এই কর্মসূচির আরেকটি চমৎকার দিক হলো গ্রামীণ অর্থনীতিতে অবদান। বিদ্যালয়গুলোতে প্রতিদিন তাজা ডিম ও কলা সরবরাহের দায়িত্বে রয়েছেন স্থানীয় নারী উদ্যোক্তারা, যার মাধ্যমে বোচাগঞ্জসহ অন্যান্য উপজেলার শত শত নারী আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন।

অন্যদিকে, ‘আয়শা ব্রেড অ্যান্ড বিস্কুট ফ্যাক্টরি’ চালুর ফলে স্থানীয় নারী-পুরুষ মিলে প্রায় ৩০০ জন কারিগর ও শ্রমিকের বিশাল কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। কারখানায় কর্মরত শ্রমিকরা জানান, বিএসটিআই (BSTI) অনুমোদিত এই ফ্যাক্টরিতে সম্পূর্ণ মান বজায় রেখে অত্যন্ত সুন্দর পরিবেশে বনরুটি তৈরি করা হয়। এখানে কাজ পেয়ে বহু কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকের পরিবারে আর্থিক সচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

ফ্যাক্টরির স্বত্বাধিকারী সোহাগ ও ম্যানেজার জানান, কোমলমতি শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ মানসম্মত বনরুটি সঠিক সময়ে সরবরাহ করা হয়। স্কুল ফিডিং কর্মসূচির চাহিদা মেটাতে এই ফ্যাক্টরিতে প্রতিদিন ১ লাখ ২০ হাজার প্যাকেট বনরুটি তৈরি করতে হচ্ছে, যা স্থানীয় নারীদের স্বাবলম্বী করতে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখতে বড় ভূমিকা রাখছে।

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন