টাকার অভাবে স্বামীকে কিডনি দিতে পারছেন না স্ত্রী

প্রকাশ: সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ণ
টাকার অভাবে স্বামীকে কিডনি দিতে পারছেন না স্ত্রী

মির্জাপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: স্বামীকে বাঁচাতে নিজের একটি কিডনি হাসিমুখে দিয়ে দিতে রাজি স্ত্রী ফাহিমা বেগম। চিকিৎসকেরাও জানিয়েছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করলে সুস্থ হয়ে উঠবেন স্বামী জহের আলী সিকদার। তবে কিডনি দেওয়ার সমস্ত মানসিক প্রস্তুতি থাকলেও ফাহিমার সামনে এখন সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অপারেশনের প্রয়োজনীয় অর্থ।

টাকার অভাবে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকা স্বামীকে কিডনি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না—এমনই এক হৃদয়বিদারক আর্তি নিয়ে আজ সোমবার (১৫ জুন) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের মির্জাপুর প্রেসক্লাবে এসে সাংবাদিকদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফাহিমা। এ সময় কিডনি রোগে আক্রান্ত তাঁর স্বামী জহের আলী সিকদার এবং তাঁদের বড় মেয়ে যুথী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তরফপুর গ্রামের ছামান উদ্দিন সিকদারের ছেলে জহের আলী সিকদার পেশায় একজন অটোরিকশা চালক ছিলেন। ২০০০ সালে উপজেলার আজগানা ইউনিয়নের তেলিনা গ্রামের সালাম মিয়ার মেয়ে ফাহিমার সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। চার সন্তানকে নিয়ে ভালোই চলছিল তাঁদের অভাবের সংসার। কিন্তু চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে জহের আলীর শরীরে জটিল কিডনি রোগ ধরা পড়ে। মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে যায় পুরো পরিবারটি। বর্তমানে তিনি ঢাকা কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ফাহিমা জানান, গত পাঁচ মাস ধরে প্রতি সপ্তাহে জহের আলীকে দুই বার করে ডায়ালাইসিস নিতে হচ্ছে। ডায়ালাইসিস ও নিয়মিত ওষুধ বাবদ প্রতি সপ্তাহে এখনও প্রায় ৮ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এ পর্যন্ত তাঁর চিকিৎসায় ব্যয় হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা। জহের আলী এখন আর রিকশা চালাতে পারেন না। বড় ছেলে ফাহাদ কোনোমতে অটোরিকশা চালিয়ে জমানো টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনদের সহযোগিতায় বাবার চিকিৎসা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু এখন পরিবারটি পুরোপুরি নিঃস্ব।

প্রেসক্লাবে ফাহিমা বেগম আকুতি জানিয়ে বলেন, “আমার স্বামী এখন মৃত্যুর প্রহর গুণছেন। আমি আমার নিজের একটি কিডনি দিয়ে তাঁকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই। চিকিৎসকেরা বলেছেন, কিডনি প্রতিস্থাপন করতে প্রায় ৬ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের ঘরে এখন আর কোনো টাকা নেই। টাকার অভাবে আমি স্বামীকে কিডনিটা দিতে পারছি না।”

তিনি আরও জানান, অর্থাভাবে তাঁদের সন্তানদের পড়াশোনাও বন্ধের উপক্রম হয়েছে। বড় মেয়ে যুথী এইচএসসি পাস করলেও টাকার অভাবে আর কলেজে ভর্তি হতে পারেনি। ছোট মেয়ে জুই আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থী, ছোট ছেলে ফয়সাল ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে এবং বড় ছেলে ফাহাদের উপার্জনেই এখন পুরো পরিবার ও বাবার ওষুধের খরচ চলছে।

নিজের কিডনি দিয়ে স্বামীকে চিরতরে সুস্থ করে তুলতে সরকার, প্রবাসী এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষদের কাছে আর্থিক সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন ফাহিমা বেগম। সামান্য কিছু টাকা জোগাড় হলেই একজন স্ত্রী তাঁর স্বামীকে নতুন জীবন উপহার দিতে পারবেন।

জহের আলী সিকদারকে সাহায্য করতে বা তাঁর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে মির্জাপুরের তরফপুর গ্রামে অথবা ঢাকা কিডনি ফাউন্ডেশন হাসপাতালে যোগাযোগ করা যেতে পারে। 

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন