চন্দ্রশেখর থেকে থালাপতি, বিজয়ের গল্প যেন স্বপ্নের মতই

প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৩:৪২ অপরাহ্ণ
চন্দ্রশেখর থেকে থালাপতি, বিজয়ের গল্প যেন স্বপ্নের মতই

বিনোদন ডেস্ক: আজ ২২ জুন। তামিল সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ও বর্তমান তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর—যিনি বিশ্বজুড়ে ‘থালাপতি বিজয়’ নামে পরিচিত—তিনি ৫২ বসন্ত পেরিয়ে ৫৩ বছরে পা রাখলেন। তিন দশকের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ৭৮টি চলচ্চিত্রের এই নায়ক আজ কেবল সিনেমার পর্দায় নয়, বাস্তব জীবনেও হয়ে উঠেছেন কোটি মানুষের ‘থালাপতি’ বা নেতা।

১৯৭৪ সালের ২২ জুন চেন্নাইতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। প্রখ্যাত নির্মাতা এস. এ. চন্দ্রশেখর ও গায়িকা শোভা চন্দ্রশেখরের সন্তান হয়েও তার পথচলা সহজ ছিল না। লয়োলা কলেজে পড়ার সময় অভিনয় নিয়ে তীব্র আগ্রহের কারণে বাবা-মায়ের অমতে বাড়ি ছাড়া হওয়ার গল্প আজও ভক্তদের অনুপ্রাণিত করে। চলচ্চিত্রের সেটে টেকনিশিয়ানদের সাথে কাজ শিখেই তিনি বড় হয়েছেন।

১৯৯২ সালে ‘নালাইয়া থিরপু’ দিয়ে অভিষেক হলেও শুরুতে তাকে অনেক সংগ্রামের মুখোমুখি হতে হয়। তবে ১৯৯৬ সালের ‘পুভে উনাক্কাগা’ তার ক্যারিয়ারে মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এরপর ‘ঘিল্লি’, ‘পোক্কিরি’, ‘থুপ্পাক্কি’, ‘মাস্টার’ ও ‘লিও’-এর মতো একের পর এক ব্লকবাস্টার সিনেমা তাকে তামিল সিনেমার অঘোষিত সম্রাট বানিয়ে দেয়।

‘থালাপতি’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ সেনাপতি বা নেতা। নব্বইয়ের দশকে ‘রসিগান’ সিনেমার সাফল্যের পর থেকে তিনি এই উপাধি পান। তবে তার সততা, নম্রতা এবং সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল আচরণের কারণে এই উপাধিটি কেবল নামে নয়, তার ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়।

সিনেমা ছেড়ে রাজনীতির মাঠে পা রাখাটা ছিল বিজয়ের জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৪ সালে ‘তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম’ (টিভেকে) গঠনের মাধ্যমে তিনি সরাসরি রাজনীতিতে নামেন। অবিশ্বাস্য দ্রুততায় তার দল তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনে ১০৮টি আসনে জয়লাভ করে। এরপরই তিনি তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন।

আজ তার এই বিশেষ দিনে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা অগনিত ভক্ত ও সহকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছায় সিক্ত করছেন। অভিনয়ের জাদুকর থেকে একজন দায়িত্বশীল রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে বিজয় এখন তামিলনাড়ুর আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীকে পরিণত হয়েছেন।

জান্নাত সকালবেলা

মন্তব্য করুন