ইতালিতে প্রবাসীর মৃত্যু: লাশ আনতে আকুতি
মাসুম বিল্লাহ, বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি: সংসারের অভাব দূর করতে এবং তিন কন্যার ভবিষ্যৎ গড়তে ধারদেনা করে ইউরোপে পাড়ি জমিয়েছিলেন বাগেরহাটের জিন্নাত খান খোকন। কিন্তু ঋণের বোঝা ও চরম হতাশার জেরে ইতালিতে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবার ও স্বজনরা জানিয়েছেন। এখন অর্থাভাবে তাঁর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
নিহত জিন্নাত খান খোকন বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের মৃত লুৎফর রহমান খানের ছেলে। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, তিন কন্যাসন্তান এবং ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা মা’কে রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উন্নত জীবনের আশায় দালালের মাধ্যমে প্রায় ৩৫ লাখ টাকা খরচ করে খোকন প্রথমে বৈধভাবে বুলগেরিয়ায় যান। পরবর্তীতে সেখান থেকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পানিপথ পাড়ি দিয়ে অবৈধভাবে ইতালিতে প্রবেশ করেন। এই বিদেশযাত্রার খরচ জোগাতে তিনি নিজের বসতভিটাসহ পরিবারের শেষ সম্বলটুকু বিক্রি করে দেন এবং বিভিন্ন ব্যক্তি ও এনজিও থেকে চড়া সুদে ঋণ নেন।
স্বজনরা জানান, গত ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর দেশ ছাড়েন খোকন। কিন্তু ইতালিতে পৌঁছানোর পর আশানুরূপ কাজ না পাওয়া, পাওনাদারদের ঋণের তীব্র চাপ এবং ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। একপর্যায়ে গত ১৯ জুন (শুক্রবার) ইতালির একটি স্থানে তিনি গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করেন বলে দেশের পরিবারে খবর পৌঁছায়।
খোকনের মৃত্যুর খবরে তাঁর গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বৃদ্ধা মা জরিনা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। স্ত্রী সুমি বেগম দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। খোকনের বড় মেয়ে জেরিন আক্তার (১৪) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলে, “আমি শুধু চাই, বাবাকে শেষবারের মতো একবার দেখতে। বাবার মরদেহটা যেন দেশে আনা হয়।”
স্বজনরা জানান, ইতালি থেকে খোকনের মরদেহ দেশে আনতে প্রায় ৭ লাখ টাকা প্রয়োজন। কিন্তু ঋণের দায়ে নিঃস্ব হওয়া এই পরিবারের পক্ষে এত বিপুল পরিমাণ অর্থ জোগাড় করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
স্থানীয় প্রতিবেশী মোহাম্মদ মহিদুল ইসলাম ও মো. মিজান জানান, পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হারিয়ে এখন তারা পথে বসার উপক্রম হয়েছে। এই মুহূর্তে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা অত্যন্ত জরুরি।
এআইএল/সকালবেলা
|