নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ণ
নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক আজ

অনলাইন ডেস্ক: বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ, শুল্ক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং দ্বিপক্ষীয় সমন্বয় বাড়াতে বাংলাদেশ-ভারত যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের ১৬তম বৈঠক আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে শুরু হচ্ছে। দুই দিনব্যাপী আয়োজিত এই আলোচনা পর্ব আগামী আগামীকাল শুক্রবার শেষ হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্যের বিভিন্ন বাধা, বাংলাদেশি পাটজাত পণ্যের ওপর আরোপিত ভারতীয় অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক প্রত্যাহার এবং উভয় দেশের সীমান্তভিত্তিক স্থলবন্দর-সংক্রান্ত সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়গুলো প্রাধান্য দিয়ে ঢাকার পক্ষ থেকে জোর দাবি উপস্থাপন করা হবে।

বৈঠকে যোগ দিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তারের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সরকারি প্রতিনিধিদল গত মঙ্গলবার নয়াদিল্লির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছে।

প্রতিনিধিদলের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের এই বৈঠক মূলত দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক বিভিন্ন ইস্যু আলোচনার প্ল্যাটফর্ম, যা মূল সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বশর্ত হিসেবে কাজ করে। সেখানে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বাণিজ্য সম্পর্কিত প্রায় সব সমস্যা ও প্রস্তাব তুলে ধরা হবে। তবে সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (সিইপিএ বা CEPA) সম্পর্কিত বিষয়টি এবারের বাংলাদেশের আলোচ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত নেই বলে জানা গেছে।

বৈঠকে আলোচনার অন্যতম প্রধান এজেন্ডা হিসেবে থাকছে দুই দেশের মধ্যকার বিশাল দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ঘাটতির বিষয়টি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভৌগোলিক অবস্থান ও বাণিজ্যিক চাহিদার কারণে বাংলাদেশে ভারতীয় পণ্যের বিশাল বাজার থাকলেও তার বিপরীতে ভারতে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার এখনো বেশ সীমিত।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিগত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ভারতে মাত্র ১৭৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছে। অথচ একই সময়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে আমদানি হয়েছে প্রায় এক হাজার ৯৬ কোটি ডলারের সমপরিমাণ পণ্য।

বর্তমানে চীনের পর ভারতই বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক দেশ। দেশের শিল্প খাত পরিচালনা ও পোশাক শিল্পের চাকা সচল রাখতে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সিংহভাগ শিল্পের কাঁচামাল, সুতা, কাপড় ও তুলা ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে বাণিজ্যিক ভারসাম্য ফেরাতে বাণিজ্য বাধা ও অপ্রয়োজনীয় শুল্ক প্রত্যাহার জরুরি বলে মনে করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।