টেক্সাসে ট্রাম্পের প্রচারে বিক্ষোভ, শক্ত ঘাঁটিতেই ভরাডুবির আশঙ্কা
অনলাইন ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনসভায় একের পর এক বিক্ষোভকারীর তীব্র বাধায় বারবার থমকে গেছে তাঁর বক্তব্য। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাতে টেক্সাসের সান আন্তোনিওতে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে এমন নজিরবিহীন পরিস্থিতির মুখে পড়েন তিনি।
ঘটনাটি এমন এক সংকটময় সময়ে ঘটল, যখন ঐতিহ্যগতভাবে রিপাবলিকানদের রেড স্টেট বা শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত টেক্সাসে আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অপ্রত্যাশিতভাবে তুমুল তীব্র হয়ে উঠেছে।
সান আন্তোনিওর ফ্রিম্যান কলিজিয়ামে আয়োজিত সমাবেশটিতে ট্রাম্প মঞ্চে উঠে বক্তব্য শুরু করতেই একের পর এক বিক্ষোভকারী গর্জে ওঠেন। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা এপি (AP)-র তথ্যমতে, অন্তত ছয়জনের পর আরও একাধিক বিক্ষোভকারী ব্যানার ও স্লোগান নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যের বিরোধিতা শুরু করেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ও পুলিশ সদস্যরা এক বিক্ষোভকারীকে জোরপূর্বক বাইরে নিয়ে যান। পরিস্থিতির তীব্রতায় ট্রাম্পকে কয়েক মুহূর্তের জন্য মাইক্রোফোন থেকে সরে দাঁড়িয়ে বক্তব্য স্থগিত রাখতে হয়।
শুরুতে ট্রাম্প চিৎকার অমান্য করে বক্তব্য চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পরবর্তীতে ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের উদ্দেশ্যে কটাক্ষ করেন। প্যাক্সটনকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম সেরা অ্যাটর্নি জেনারেল’ আখ্যা দিয়ে তাঁর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। তবে জনসভায় ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত টেক্সাসের গভর্নর গ্রেগ অ্যাবটের অনুপস্থিতি রাজনৈতিক মহলকে বেশ চমকে দিয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা অ্যাবটের এই অনুপস্থিতিকে ট্রাম্পের রাজনৈতিক ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার লক্ষণ হিসেবেই উল্লেখ করছে।
টেক্সাসের এই সিনেট নির্বাচনে ট্রাম্প সমর্থিত প্রার্থী প্যাক্সটনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছেন জনপ্রিয় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস টালারিকো। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে টেক্সাসের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা জয় না পেলেও এবার বাতাস উল্টো দিকে বইছে। রয়টার্স ও নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা কলেজের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী টালারিকো ৫১ শতাংশ সমর্থন পেয়ে এগিয়ে রয়েছেন, যেখানে প্যাক্সটনের ঝুলিতে রয়েছে ৪৫ শতাংশ সমর্থন।
টেক্সাসে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্প প্রায় ১৪ শতাংশ পয়েন্টের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলেও বর্তমানে লাগামহীন মূল্যস্ফীতি, উচ্চ জ্বালানি খরচ, ইরান সংকট এবং হিস্পানিক ভোটারদের ট্রাম্পের ওপর অসন্তোষ রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি জটিল করে তুলেছে। রয়টার্স/ইপসসের জরিপ অনুসারে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা বা অনুমোদন এখন নেমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ৩২ শতাংশে।
আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ইউএস সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে টেক্সাসের আসনটি রিপাবলিকানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্যাক্সটন পরাজিত হলে তা ট্রাম্পের ব্যক্তিগত রাজনৈতিক কর্তৃত্বের জন্য এক বিরাট বিপর্যয় বলে বিবেচিত হবে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝতে পেরে এক মাসের কম সময়ে এটি ছিল ট্রাম্পের তৃতীয় টেক্সাস সফর। যে রাজ্যে পূর্বে সহজেই জয় পাওয়া যেত, সেখানে পরাজয় ঠেকানোর অংশ হিসেবে রিপাবলিকান পার্টি ইতোমধ্যে ৩০ কোটি মার্কিন ডলারেরও বেশি রাজনৈতিক তহবিল ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সান আন্তোনিওর এই বিক্ষোভ শুধু জনসভার বিশৃঙ্খলা নয়, বরং টেক্সাসের বদলাতে থাকা ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণেরই এক বড় বার্তা।