বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্কতা জারি করল যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্কতা জারি করল যুক্তরাজ্য

বাংলাদেশ ভ্রমণে ব্রিটিশ নাগরিকদের সতর্কতা জারি

বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামে সম্ভাব্য অস্থিরতার আশঙ্কায় ব্রিটিশ নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে যুক্তরাজ্য। দেশটির ফরেন, কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিসের (এফসিডিও) সর্বশেষ তথ্যে জানানো হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের ভ্রমণ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ভ্রমণ সতর্কতায় উল্লেখ করা হয়, ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং গত বৃহস্পতিবার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হয়েছে। এ সময় দেশজুড়ে রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ বাড়তে পারে। 

ফলে বড় ধরনের জনসমাগম, নিরাপত্তা বাহিনীর বাড়তি উপস্থিতি এবং যাতায়াত ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা রয়েছে। ব্রিটিশ নাগরিকদের চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনীয় বিকল্প পরিকল্পনা গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের মতো দুর্গম এলাকায় ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি উল্লেখ করে অতিজরুরি প্রয়োজন ছাড়া সেখানে ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। সতর্কতায় আরও বলা হয়, এসব এলাকায় জরুরি পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্য সরকারের পক্ষে সহায়তা দেওয়া কঠিন হতে পারে।

এফসিডিও জানিয়েছে, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ভ্রমণ করলে ভ্রমণ বীমা বাতিল হতে পারে। পাশাপাশি নারী, প্রতিবন্ধী ও একা ভ্রমণকারীদের জন্য আলাদা সাধারণ নিরাপত্তা নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের ই-মেইল অ্যালার্টের মাধ্যমে নিয়মিত পরিস্থিতির হালনাগাদ জানতে এবং জরুরি প্রয়োজনে ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সন্ত্রাসী হামলা ও সহিংসতার শঙ্কা

সাধারণ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি ও সন্ত্রাসী হামলার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে এফসিডিও। সংস্থাটির মতে, দেশে উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয় রয়েছে এবং রেস্তোরাঁ, গণপরিবহন, ভিড় এলাকা, ধর্মীয় উপাসনালয় ও রাজনৈতিক সমাবেশে হামলার ঝুঁকি বেশি। 

ধর্মীয় সংখ্যালঘু এবং ইসলামবিরোধী হিসেবে অভিযুক্ত ব্যক্তিরাও লক্ষ্যবস্তু হতে পারেন। এ পরিস্থিতিতে বড় জমায়েত এড়িয়ে চলা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নির্দেশনা অনুসরণের আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের পর দেশের পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি।

আই.এ/সকালবেলা

মন্তব্য করুন