ভিডিও
স্টোরি
ফটো স্টোরি
বর্ষার শুরুতেই দেশে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত রোববার (২৬ এপ্রিল) মাত্র একদিনে দেশের সাত জেলায় ১৪ জনের প্রাণহানি সচেতনতার প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে এনেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ অঞ্চল। এই প্রাণঘাতী দুর্যোগ থেকে বাঁচতে সতর্কতাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।
বজ্রপাতের সময় করণীয় ও সতর্কতা:
নিরাপদ আশ্রয়: বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত কোনো পাকা দালান বা শক্ত ছাউনিযুক্ত স্থানে আশ্রয় নিন। খোলা জায়গা, ঝুপড়ি ঘর বা অস্থায়ী শেড এড়িয়ে চলুন। জানালার কাঁচ থেকে দূরে থাকুন।
গাছ ও খুঁটি থেকে দূরে: কখনোই উঁচু গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি বা টাওয়ারের নিচে দাঁড়াবেন না। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু বস্তুকে আঘাত করে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে প্রবাহিত হয়ে পাশে থাকা ব্যক্তিকে আক্রান্ত করে।
জলাশয় এড়িয়ে চলা: পানি বিদ্যুৎ সুপরিবাহী। তাই বজ্রপাতের সময় নদী, পুকুর, হ্রদ বা সুইমিং পুলে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। মাছ ধরা বা নৌকা ভ্রমণ দ্রুত বন্ধ করে নিরাপদ স্থানে চলে যান।
ধাতব বস্তু ও ইলেকট্রনিক্স: বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন (চার্জে থাকা অবস্থায়), ল্যাপটপ, তারযুক্ত ল্যান্ডফোন বা কোনো বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করবেন না। লোহার বেড়া, খুঁটি বা ছাতা থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন।
পায়ের সুরক্ষা: খালি পায়ে থাকা বা ভেজা মাটিতে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা স্যান্ডেল পরলে মাটির মাধ্যমে প্রবাহিত বিদ্যুৎ থেকে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া যেতে পারে।
ঘরের ভেতরে সতর্কতা: জানলা-দরজা বন্ধ রাখুন। পানির কল ব্যবহার বা গোসল করা থেকে বিরত থাকুন, কারণ পাইপের মাধ্যমেও বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে।
গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি: বজ্রাঘাতে কেবল প্রাণহানিই নয়, বেঁচে থাকলেও পেশিতে তীব্র ব্যথা, হাড় ভাঙা, কানে কম শোনা, চোখ ঝলসানো, এমনকি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মতো মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।
শিশুদের সচেতনতা: বজ্রপাতের সময় ভয় না পেয়ে কীভাবে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হয়, তা শিশুদের শেখানো জরুরি। বিশেষ করে খোলা মাঠে খেলাধুলা করার সময় হঠাৎ ঝড় শুরু হলে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার শিক্ষা তাদের জীবন বাঁচাতে পারে।
বজ্রধ্বনি শেষ হওয়ার অন্তত ৩০ মিনিট পর বাইরে বের হওয়া নিরাপদ। নিয়মিত আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুসরণ করুন এবং দুর্যোগের সময় ঘরে অবস্থান করুন।
জান্নাত/সকালবেলা
| আজকের তারিখঃ বঙ্গাব্দ