মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৪৮ পূর্বাহ্ণ
মার্কিন হামলায় শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল ক্ষতিগ্রস্ত

অনলাইন ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মাঝে এবার ইরানের একটি বিশেষায়িত শিশু ক্যান্সার হাসপাতাল যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন দেশটির স্থানীয় এক চিকিৎসক ও সরকারি সংবাদ মাধ্যম।

দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় ইরানের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহর ও সমুদ্রবন্দরে মার্কিন বিমান ও মিসাইল আক্রমণের পর আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) এই চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। তবে বেসামরিক ও স্বাস্থ্যসেবা স্থাপনায় হামলা ও ক্ষতির এই গুরুতর দাবির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন বা হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

আহভাজের কেমোথেরাপি সেন্টারে হামলা: ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও স্থানীয় চিকিৎসকের তথ্যসূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় কৌশলগত তেল সমৃদ্ধ শহর আহভাজে অবস্থিত ‘শহীদ বাঘাই হাসপাতাল’-এর ঠিক সংলগ্ন এলাকায় জোড়া মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।

উক্ত হাসপাতালটি দক্ষিণ ইরানে শিশু এবং সব বয়সী ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের নিয়মিত কেমোথেরাপি ও রেডিয়েশন চিকিৎসার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বিশেষায়িত একটি চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি’ (Mehr News Agency) নিশ্চিত করেছে যে, বিকট বিস্ফোরণে হাসপাতাল ভবন কেঁপে উঠলে এবং সংলগ্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে রোগী ও চিকিৎসকদের মাঝে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা ও জীবন রক্ষার তাগিদে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাধীন সব শিশু ও ক্যান্সার আক্রান্ত রোগীদের সাময়িকভাবে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

তবে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় সরাসরি কোনো রোগী বা স্বাস্থ্যকর্মী হতাহত হয়েছেন কি না, কিংবা হাসপাতালের মূল চিকিৎসা যন্ত্রপাতির কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে— সে বিষয়ে বিস্তারিত বা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য মেহর নিউজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

বেসামরিক স্থাপনায় ক্ষতির চিত্র: এদিকে সাম্প্রতিক এই মার্কিন অভিযানের পর ইরানের দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিশাল ক্ষয়ক্ষতির ছবি ও ভিডিও প্রকাশ পাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো পর্যবেক্ষণ করছেন। প্রত্যক্ষদর্শী ও বাসিন্দাদের দাবি, সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে স্থানীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক বন্দরসহ একাধিক অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মন্তব্য করুন