সৌদি আরবে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলারের অত্যাধুনিক অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র
অনলাইন ডেস্ক: উপসাগরীয় অঞ্চলে নিজেদের অন্যতম প্রধান কৌশলগত মিত্র সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বহুগুণ বাড়াতে প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বিশাল অস্ত্র চুক্তির সবুজ সংকেত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। রিয়াদের কাছে মোট ১.৯৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের অত্যাধুনিক ‘অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল ওয়েপন সিস্টেম’ (APKWS) ও সংশ্লিষ্ট সামরিক প্রযুক্তি বিক্রির সম্ভাব্য অনুমোদন দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
২০ হাজার গাইডেন্স সিস্টেমের বিশাল বহর:বিশাল এই চুক্তির আওতায় সৌদি রয়্যাল এয়ার ফোর্স তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থাকে আরও বেশি নিখুঁত ও প্রাণঘাতী করে তুলতে ২০ হাজার গাইডেন্স সেকশন ক্রয় করবে। এর মধ্যে রয়েছে:
১০,০০০টি এয়ার-টু-এয়ার (আকাশ থেকে আকাশ) গাইডেন্স সেকশন
১০,০০০টি এয়ার-টু-গ্রাউন্ড (আকাশ থেকে ভূমি) গাইডেন্স সেকশন
এই লেজার-গাইডেড প্রযুক্তিগুলো যেকোনো সাধারণ রকেট ও ক্ষেপণাস্ত্রকে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার মতো হাই-টেক মিসাইলে রূপান্তর করতে সক্ষম।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, এই সামরিক চুক্তির প্রধান ঠিকাদারি বা ম্যানুফ্যাকচারিং প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে বিখ্যাত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংস্থা ‘বিএই সিস্টেমস’ (BAE Systems)।
চুক্তিটি সুচারুভাবে বাস্তবায়ন, কারিগরি সহায়তা এবং চালানের সঠিক ব্যবহারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদে তাদের ৩০ জন উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিকে সৌদি আরবে পাঠাবে। এর মধ্যে ১৫ জন মার্কিন সরকারি কর্মকর্তা এবং বাকি ১৫ জন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞ। তারা সরাসরি সৌদি সামরিক বাহিনীকে প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন, সফটওয়্যার পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশেষ কৌশলগত প্রশিক্ষণ প্রদান করবেন।
বিবৃতিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর উল্লেখ করেছে যে, এই অস্ত্র বিক্রি চুক্তিটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্য বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
কর্মকর্তারা বলছেন,
“এই চুক্তি উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র দেশ সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করবে। এটি ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে সৌদি সশস্ত্র বাহিনীর সাথে যুক্তরাষ্ট্র, ন্যাটো (NATO) এবং অন্যান্য মিত্র দেশগুলোর যৌথ সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা ও ইন্টারঅপারেবিলিটি (যৌথ সমন্বয়) অনেক বৃদ্ধি পাবে।”
বিশ্বরাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও তার প্রক্সি দলগুলোর ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং লোহিত সাগরের অস্থিরতার মুখে সৌদি আরবের আকাশ ও ভূ-ভাগের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই ওয়াশিংটন তড়িঘড়ি করে এই বিশাল অস্ত্র চালানের চূড়ান্ত অনুমোদন দিল।
|