মিঠামইন উপজেলা বিএনপি সভাপতি হত্যায় ৩ আসামি গ্রেপ্তার
অনলাইন ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব এস এম জাহাঙ্গীর আলমকে ওনার নিজ বাসভবনের সামনে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। এই বর্বরোচিত হামলায় ওনার সাথে থাকা হাদিস নামের আরও এক সঙ্গী গুরুতর জখম হয়েছেন। নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে চিরুনি অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। একই সাথে ওনাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো চাপাতিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গত ১৫ জুলাই (বুধবার) রাত আনুমানিক ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে মিঠামইন থানাধীন মিঠামইন সদর বেরিবাঁধ এলাকায় ভিকটিমের নিজ বাসভবনের সামনে এই খুনের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার রাতে উপজেলা বিএনপি সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর আলম ওনার সঙ্গী হাদিসকে সাথে নিয়ে বাসার সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী আচমকা ওনাদের ওপর ধারালো চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে। সন্ত্রাসীরা জাহাঙ্গীর আলম ও ওনার সঙ্গী হাদিসকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করলে দুজনেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
আশপাশের লোকজন ও দলীয় কর্মীরা ছুটে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে জখমপ্রাপ্ত ভিকটিমদের উদ্ধার করে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গভীর রাতে চিকিৎসকেরা জাহাঙ্গীর আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত হাদিস বর্তমানে হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হত্যাকাণ্ডের খবর পাওয়া মাত্রই মিঠামইন থানা পুলিশের একাধিক টিম জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে মাঠে নামে। তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর অভিযান চালিয়ে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ৩ ঘাতককে গ্রেপ্তার করে থানা হাজতে আটকে রাখা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হলেন—১. মো. হেলাল (২৫), পিতা- মৃত সুলতান, সাং- চালিতাবুনিয়া, থানা- বামনা, জেলা- বরগুনা; ২. মো. মহিন উদ্দিন (৩২), পিতা- মো. নূর হোসেন, মাতা- নুরুন্নাহার, সাং- দুধরাজপুর, থানা- রামগঞ্জ, জেলা- লক্ষ্মীপুর এবং ৩. মো. শাকিল হোসেন ওরফে শাহীন (২৫), পিতা- রহমত উল্লাহ ওরফে খোকন, সাং- মধ্যপাড়া, থানা- রামগঞ্জ, জেলা- লক্ষ্মীপুর। গ্রেপ্তারের পর ওনাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলের আশপাশ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মূল রক্তমাখা চাপাতিটি উদ্ধার করে পুলিশ।
মিঠামইন থানা পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, নিহত প্রবীণ নেতার লাশের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। এই নৃশংস ও চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং আসামিদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
|