উল্লাসের মাঝেই আইনি জাঁতাকলে মেসিরা

প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:০৮ পূর্বাহ্ণ
উল্লাসের মাঝেই আইনি জাঁতাকলে মেসিরা

ক্রীড়া ডেস্ক: ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে ২-১ গোলের রুদ্ধশ্বাস জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালের মঞ্চ নিশ্চিত করেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। কিন্তু এই বাঁধভাঙা আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই চরম এক আন্তর্জাতিক আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন আলবিসেলেস্তে ফুটবলাররা।

ইংলিশদের পরাজিত করার পর মাঠের ভেতরেই ভূ-রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল এক ব্যানার প্রদর্শন করেছেন আর্জেন্টিনার ফুটবলাররা, যা ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার (FIFA) শৃঙ্খলা ও আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

লাস মালভিনাস সন আরহেনতিনাস’ এবং ইংলিশদের উসকানি:আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স (Reuters)-এর এক চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বুধবার (১৫ জুলাই) যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজার সাথে সাথে মাঠে বাঁধভাঙা উল্লাসে মেতে ওঠেন খেলোয়াড়রা। কিন্তু সেই উদযাপনের একপর্যায়ে ক্যামেরায় ধরা পড়ে এক অনাকাঙ্ক্ষিত দৃশ্য।

দলের দুই নির্ভরযোগ্য তারকা— ডিফেন্ডার লিসান্দ্রো মার্তিনেস এবং মিডফিল্ডার জিওভানি লো সেলসোকে বেশ হাস্যোজ্জ্বল মুখে একটি বড় ব্যানার উঁচিয়ে গ্যালারির দিকে নাড়তে দেখা যায়। স্প্যানিশ ভাষায় লেখা সেই ব্যানারে স্পষ্ট অক্ষরে খোদাই করা ছিল:

‘‘Las Malvinas son Argentinas’

(যার বাংলা অর্থ: ‘ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ আর্জেন্টিনার’)

ইতিহাস থেকে জানা যায়, দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরে অবস্থিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ১৯৮২ সালে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল, যেখানে জয় পেয়েছিল যুক্তরাজ্য। কিন্তু আর্জেন্টিনা আজও এই দ্বীপপুঞ্জকে নিজেদের ‘মালভিনাস’ বলে দাবি করে আসছে। এমন প্রেক্ষাপটে ইংল্যান্ড জাতীয় দলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের ঠিক পরপরই রাজনৈতিক দিক থেকে এই স্পর্শকাতর বার্তা প্রদর্শনকে পরাজিত ইংলিশ সমর্থকদের কাটা গায়ে চরম নুনের ছিটে দেওয়ার মতো উসকানি হিসেবে দেখছেন ক্রীড়া বিশ্লেষকরা।

বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ইভেন্টে কঠোর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা মাঠের ভেতরে ফুটবলারদের হাতে এই রাজনৈতিক ব্যানারটি কীভাবে পৌঁছাল, তা নিয়ে বড় ধরনের নিরাপত্তার প্রশ্ন উঠেছে। তবে এটি কোথা থেকে এবং কার মাধ্যমে এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

খেলাধুলার মাঠকে যেকোনো ধরনের রাজনীতি, বর্ণবাদ ও বৈষম্য থেকে মুক্ত রাখতে ফিফার নিয়ম বরাবরই অত্যন্ত কঠোর।

ফিফার অফিশিয়াল ‘স্টেডিয়াম আচরণবিধি’ অনুযায়ী— স্টেডিয়ামের ভেতরে কোনো ধরনের রাজনৈতিক, আপত্তিকর কিংবা বৈষম্যমূলক ব্যানার, পতাকা, লিফলেট, পোশাক বা সরঞ্জাম প্রদর্শন করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

আর্জেন্টিনার ফুটবলারদের এই প্রকাশ্য নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে তাৎক্ষণিক মন্তব্য চাওয়া হলেও ফিফার পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট ফুটবলার কিংবা আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে (AFA) বড় অঙ্কের জরিমানা বা শাস্তির আওতায় আনতে পারে ফিফার ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

মন্তব্য করুন