এইচএসসি কেন্দ্রে অভিভাবকের অনুপ্রবেশ, দুই শিক্ষক অব্যাহতি

প্রকাশ: বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০৫:১৬ অপরাহ্ণ
এইচএসসি কেন্দ্রে অভিভাবকের অনুপ্রবেশ, দুই শিক্ষক অব্যাহতি

মো: সবুজ ইসলাম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও): ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল মহিলা ডিগ্রি কলেজের এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এক অভিভাবকের অবৈধভাবে কক্ষে প্রবেশ করে পরীক্ষার্থীকে উত্তর সরবরাহ করার অভিযোগে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অবহেলার কারণে ওই কক্ষে দায়িত্ব পালনকারী দুই কক্ষ পরিদর্শককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত সোমবার (১৩ জুলাই ২০২৬) পরীক্ষা চলাকালে কেন্দ্রের ২০২ ও ২০৩ নম্বর কক্ষে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে নেহা ও আফিনা নামে দুই পরীক্ষার্থীর এক অভিভাবক, যিনি ওই কলেজেরই একজন প্রভাষক, তিনি অবৈধভাবে কক্ষে প্রবেশ করেন। কক্ষে একাধিক পরিদর্শক উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও তিনি পরীক্ষার্থীদের উত্তর সরবরাহ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কক্ষে প্রবেশের অভিযোগ ওঠা রবিউল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি কলেজের দর্শন বিভাগের প্রভাষক।

ঘটনার পর পরীক্ষা শেষে কয়েকজন পরীক্ষার্থী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দেন।

লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ মহাদেব বসাক তাৎক্ষণিকভাবে ইসলামি ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কক্ষ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীন তালুকদার এবং আবু তাহেরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। পরে তাঁদের কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।

অব্যাহতি পাওয়া কক্ষ পরিদর্শক নাজিম উদ্দীন তালুকদার বলেন, "অভিভাবক কক্ষে প্রবেশের ঘটনায় আমাদের শোকজ করা হয়েছে। তবে কক্ষে প্রবেশকারী ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার মূল দায়িত্ব কেন্দ্র সচিবের।"

অভিযোগকারী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দাবি, বহিরাগত একজন প্রভাষক কীভাবে পরীক্ষা চলাকালে কক্ষে প্রবেশ করে নিজের মেয়েকে সহযোগিতা করার সুযোগ পেলেন, তা খতিয়ে দেখা দরকার। মূল অভিযুক্তকে আড়াল করে শুধু পরিদর্শকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে কেন্দ্র সচিব ও কলেজের অধ্যক্ষ মহাদেব বসাকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

রাণীশংকৈল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা বেগম বলেন, "লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের শোকজ করা হয়েছে। জবাব পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এই ঘটনায় অন্য কেউ সংশ্লিষ্ট থাকলে তাও খতিয়ে দেখা হবে।"

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন