ইরানের হামলার আশঙ্কায় ক্যাটারিং ট্রাকে ট্রাম্পের আত্মগোপন ও বিমান বদল

প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ণ
ইরানের হামলার আশঙ্কায় ক্যাটারিং ট্রাকে ট্রাম্পের আত্মগোপন ও বিমান বদল
আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা বলয়ে ট্রাম্পকে স্থানান্তরের জন্য প্রস্তুত রাখা ক্যাটারিং ট্রাক ও এয়ার ফোর্স ওয়ান।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান ও এর সহযোগী গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র আক্রমণ বা হত্যাচেষ্টার সুনির্দিষ্ট হুমকি মোকাবিলায় অভূতপূর্ব এক নিরাপত্তা কৌশল অবলম্বন করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মাসে ন্যাটো সম্মেলন শেষে তুরস্ক ছাড়ার মুহূর্তে ক্যামেরার সামনে স্বাভাবিকভাবে পুরোনো 'এয়ার ফোর্স ওয়ান'-এ উঠলেও, ভেতরে গিয়ে খাবার সরবরাহের (ক্যাটারিং) একটি লিফট ট্রাকে আত্মগোপন করে বিমান থেকে নেমে যান তিনি। সেখান থেকে গোপনে অপেক্ষারত সি-৩২এ (C-32A) নামের একটি ছোট সামরিক বিমানে উঠে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।

আমেরিকান প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট প্রথম এই নাটকীয় বিমান বদলের খবরটি প্রকাশ্যে আনে এবং পরবর্তীতে সিএনএনসিবিএস নিউজ মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বরাতে বিষয়টি নিশ্চিত করে।

ক্যাটারিং ট্রাক ও বিভ্রান্তিকর 'ডিকয়' বিমান:

প্রতিবেদন থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আঙ্কারার এসেনবোগা বিমানবন্দরে দৃশ্যমানভাবে সাংবাদিকদের সামনে দিয়ে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। কিন্তু বিমানটির বিপরীত দরজায় রানওয়েতে যুক্ত থাকা খাবার সরবরাহের হাইড্রোলিক ট্রাকে চেপে ট্রাম্প এবং তাঁর কয়েকজন ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা উপদেষ্টা নিঃশব্দে নেমে আসেন। ট্রাকটি চালিয়ে রানওয়েতে থাকা বিমান বাহিনীর অন্য ছোট বিমানে ট্রাম্পকে পৌঁছে দেয়।

সাংবাদিকদের বিভ্রান্ত করতে প্রেসিডেন্ট যে বিমানে উঠেছিলেন, সেটিকে 'ডিকয়' (Decoy) বা ছদ্মবেশী বিমান হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এতে ট্রাম্পকে কভার করতে যাওয়া মূল সাংবাদিক দল এবং বেশ কয়েকজন হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা অবস্থান করছিলেন, যারা তখনও ভাবছিলেন ট্রাম্প তাদের সাথেই রয়েছেন।

সাংবাদিকদের সন্দেহ ও ট্রাম্পের মন্তব্য:

উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পরই ডিকয় বিমানে থাকা সাংবাদিকদের নির্দেশ দেওয়া হয় প্রেস কেবিনের জানালার সব পর্দা বন্ধ রাখতে। এ সময় প্রেসিডেন্ট নিজেই প্রেস কেবিনে এসে রহস্যজনক সুরে রসিকতা করে বলেন, “সম্ভবত আপনারা একটি বিপজ্জনক ফ্লাইটে আছেন। তবে আমি গেলে আপনারাও যাবেন, তাই তো?”

পরবর্তীতে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্স মিলডেনহল ঘাঁটিতে তিনটি বিমান (পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান, সি-৩২এ এবং কাতারের দেওয়া নতুন বিমান) একে একে অবতরণ করে। সেখানে আবারও ক্যামেরার চোখ এড়িয়ে ট্রাম্প ছোট বিমান থেকে নেমে কাতারের উপহার দেওয়া নতুন এয়ার ফোর্স ওয়ানে স্থানান্তরিত হন এবং যুক্তরাষ্ট্র অভিমুখে চূড়ান্ত যাত্রা সম্পন্ন করেন।

হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যা:

বিমান বদলের চূড়ান্ত কারণ জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প প্রথমে কৌশলগত অজুহাত দেখিয়ে বলেছিলেন, জওয়ানদের নতুন বিমানটি ঘুরে দেখার সুযোগ দিতেই এই আয়োজন। তবে ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র স্টিভেন চিউং জানান, “প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি যেমনটি বলেছেন—আমেরিকার অনেক শত্রু তাঁর ওপর নজর রাখছে। সিক্রেট সার্ভিস এবং যৌথ নিরাপত্তা দল মার্কিন প্রেসিডেন্টের জীবন সুরক্ষায় হাতে থাকা সর্বাধুনিক এবং উচ্চমাত্রার প্রতিটি আইনি কৌশল প্রয়োগ করছে।

মন্তব্য করুন