ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালাচ্ছে আরএসএস: রাহুল গান্ধী

প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৪:১৬ অপরাহ্ণ
ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালাচ্ছে আরএসএস: রাহুল গান্ধী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন সরাসরি হিন্দুত্ববাদী সংগঠন জাতীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে তীব্র অভিযোগ তুলেছেন দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী।

আজ বুধবার (২৯ জুলাই ২০২৬) ভারতের লোকসভায় দেওয়া বক্তব্যে দেশের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার নীতি ও প্রশাসনিক কাঠামোর কড়া সমালোচনা করে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বক্তব্যে রাহুল গান্ধী বলেন, “ভারতের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখন সম্পূর্ণভাবে আরএসএস পরিচালনা করছে। দেশে শিক্ষার্থীদের স্বাধীন ও মুক্তচিন্তার নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠার ন্যূনতম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিজেদের মতপ্রকাশ বা প্রশ্ন তোলার কোনো স্বাধীনতা তাদের দেওয়া হয় না।”

শিক্ষা কারিকুলাম ও পাঠ্যক্রম পরিবর্তন প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আরএসএস ভারতের ইতিহাসকে বিকৃত করে যেসব ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে, দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের তা-ই জোরপূর্বক মেনে নিতে ও মুখস্থ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। উচ্চশিক্ষা কেন্দ্রগুলোর প্রশাসনিক চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ভারতের প্রায় প্রতিটি বড় এবং শীর্ষস্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদে একেকজন আরএসএস কর্মী বা অনুসারীকে বসানো হয়েছে।

ভারতের বর্তমান শিক্ষানীতিকে বাণিজ্যিকীকরণের হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করে রাহুল গান্ধী বলেন, বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থা সাধারণ দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষের পকেট কেটে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে তাঁদের শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করছে।

ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে নিশানা করে তিনি দাবি করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন। রাহুল গান্ধী বলেন, ছাত্ররা কিছু ‘অস্বস্তিকর প্রশ্ন’ তুলেছিল, যার উত্তর দিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অত্যন্ত ভীত ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, “স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের ছাত্রদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন।”

রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরপরই লোকসভায় তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা তাৎক্ষণিক ঘটনার প্রতিবাদ জানান এবং সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এই মন্তব্যের জন্য রাহুল গান্ধীকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান।

সূত্র: মাকতুব, এনডিটিভি

এআইএল/সকালবেলা

মন্তব্য করুন