স্বচ্ছতার অভাবে পিছিয়ে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো

প্রকাশ: শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:০৪ অপরাহ্ণ
স্বচ্ছতার অভাবে পিছিয়ে পাকিস্তানি প্রতিষ্ঠানগুলো

অনলাইন ডেস্ক:পাকিস্তানের শীর্ষ তালিকাভুক্ত পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিগুলোর সার্বিক পরিচালনা ও করপোরেট প্রতিবেদনে তথ্যের স্বচ্ছতার চরম ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। বিশেষ করে মানবাধিকার সুরক্ষা, পরিবেশগত ও সামাজিক প্রভাব (ইএসজি), করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর) এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা আশঙ্কাজনক। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী নজরদারি সংস্থা ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান’-এর সর্বশেষ মূল্যায়নে এই নেতিবাচক চিত্র উঠে এসেছে।

আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর ২০২৬) সংস্থাটির প্রকাশ করা ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন করপোরেট রিপোর্টিং অ্যাসেসমেন্ট (ট্র্যাক) ২০২৬’ শীর্ষক প্রতিবেদনে পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত ১০৪টি দেশের শীর্ষ কোম্পানির ২০২৪ ও ২০২৫ সালের প্রকাশিত আর্থিক ও পরিচালন নথি বিশ্লেষণ করা হয়। মূল্যায়নে দেখা যায়, মূল্যায়নকৃত ১০৪টি কোম্পানির গড় স্কোর দাঁড়িয়েছে ৬৬.৭৩ শতাংশ (বা ১০-এর মধ্যে ৬.৬৭)। যা সংস্থাটির আগের মূল্যায়নকৃত ৬৯টি কোম্পানির গড় স্কোর (৭২.৩ শতাংশ) থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কম। মূল্যায়নে অংশ নেওয়া কোনো কোম্পানিই সার্বিক স্বচ্ছতায় শতভাগ নম্বর তুলতে ব্যর্থ হয়েছে।

তবে বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নে যৌথভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পেরেছে ‘অয়েল অ্যান্ড গ্যাস ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ওজিডিসি)’, তাদের অর্জিত স্কোর ৯২.৭১ শতাংশ। এরপর ৯১.৬৭ শতাংশ স্কোর পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ‘ফৌজি সিমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড’ এবং ৯১.০৪ শতাংশ নিয়ে তৃতীয় স্থানে ‘সাজগার ইঞ্জিনিয়ারিং ওয়ার্কস লিমিটেড’।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, মানবাধিকার ও সিএসআর খাতে কোম্পানিগুলোর গড় পারফরম্যান্স ছিল সবচেয়ে শোচনীয়, মাত্র ৪৫.৯৮ শতাংশ। এই ক্যাটাগরিতে কেবল ফৌজি সিমেন্ট পূর্ণ স্বচ্ছতা দেখাতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া পরিবেশ ও সুশাসন সংক্রান্ত ‘ইএসজি’ ক্যাটাগরিতে গড় স্কোর ছিল ৪৭.৮৪ শতাংশ এবং দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম ও তথ্য প্রকাশের নীতিমালায় ছিল ৫৩.৪১ শতাংশ। মূল্যায়নে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানে শিশুশ্রম রোধ, কর্মীদের নিরাপদ পরিবেশ, লিঙ্গসমতা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর সুস্পষ্ট অবকাঠামো তুলে ধরতে পাকিস্তানভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যাপক গাফিলতি রয়েছে।

তবে দেশীয় সাংগঠনিক কাঠামো এবং অভ্যন্তরীণ আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশের মতো সনাতন খাতগুলোতে কোম্পানিগুলোর গড় পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো (যথাক্রমে ৯২.৪৯ শতাংশ ও ৯২.৫০ শতাংশ)। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল পাকিস্তান স্পষ্ট করেছে, এই মূল্যায়ন কোম্পানিগুলোর নীতিগত তথ্য প্রকাশের ওপর ভিত্তি করে তৈরি; তবে তথ্য প্রকাশের ঘাটতি থাকা মানেই প্রত্যক্ষ কোনো অনৈতিক কাজ নয়, আবার উচ্চ নম্বর পাওয়া মানেই বাস্তবে ভালো কাজ করার শতভাগ নিশ্চয়তা নয়। মূলত বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন এবং পাকিস্তানে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই মূল্যায়নের ওপর তাগিদ দিয়েছে সংস্থাটি।

সকালবেলা / নুসরাত